তারিখের পর তারিখের দিন শেষ, হাইকোর্টকে কড়া সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট – এবেলা

তারিখের পর তারিখের দিন শেষ, হাইকোর্টকে কড়া সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও রায় ঘোষণায় চরম অনিশ্চয়তা দূর করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়ায় ‘তারিখের পর তারিখ’-এর সংস্কৃতি আর বরদাস্ত করা হবে না। দেশের সব হাইকোর্টের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া নির্দেশিকা জারি করে সুপ্রিম কোর্ট এবার সংরক্ষিত রায় এবং জামিন সংক্রান্ত আদেশ প্রকাশের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। আদালতের এই কড়া অবস্থানের মূল উদ্দেশ্য হলো বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং কার্যকর করে তোলা।

সময়সীমার কড়া নজরদারি ও নতুন নিয়ম

সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো মামলায় শুনানি শেষে রায় সংরক্ষিত রাখার পর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যেই তা অবশ্যই চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করতে হবে। জামিন সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে; জামিনের আদেশ যথাসম্ভব শুনানির পরের দিনই জারি করতে হবে এবং সেই দিনই তা সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে, জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত বিচারাধীন বন্দীদের আদেশ পাওয়ার দিনই, অথবা বড়জোর পরের দিনই কারাগার থেকে মুক্তি দিতে হবে। রায়ের কার্যকর অংশ প্রকাশ্য আদালতেই ঘোষণা করার পাশাপাশি, বিস্তারিত কারণসহ পূর্ণাঙ্গ রায় সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ব্যর্থতায় কড়া পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই নির্দেশিকা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট মামলাটি অন্য বেঞ্চে স্থানান্তর করা হতে পারে। এমনকি রায় সংরক্ষিত হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে যদি তার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না করা হয়, তবে সেই রায় প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়ে মামলাটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো বেঞ্চে পাঠানো যাবে। এই নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করার জন্য দেশের সব হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলদের নিজ নিজ প্রধান বিচারপতির কাছে বিষয়টি অবিলম্বে উপস্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ হয়রানির অবসান ঘটবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *