৪০ বছরের অপেক্ষা শেষে কলকাতা মেট্রোয় ঐতিহাসিক বদল, অ্যালুমিনিয়াম থার্ড রেলের হাত ধরে গতি বাড়বে ট্রেনের! – এবেলা

৪০ বছরের অপেক্ষা শেষে কলকাতা মেট্রোয় ঐতিহাসিক বদল, অ্যালুমিনিয়াম থার্ড রেলের হাত ধরে গতি বাড়বে ট্রেনের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা শহরের গণপরিবহণের লাইফলাইন মেট্রো রেল এবার এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে। প্রায় ৪০ বছর পর কলকাতা মেট্রোর ‘ব্লু লাইন’ বা উত্তর-দক্ষিণ করিডরে পুরোনো ইস্পাতের থার্ড রেল বদলে বসানো হলো আধুনিক অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেল। প্রতিদিন কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত যে লক্ষাধিক যাত্রী যাতায়াত করেন, মেট্রো কর্তৃপক্ষের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে তাদের দৈনিক সফরের অভিজ্ঞতা আমূল বদলে যেতে চলেছে। ট্রেনের গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি এবার আরও কম সময়ের ব্যবধানে মেট্রো পরিষেবা পাবেন যাত্রীরা।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন

মেট্রো রেল সূত্রের খবর, এত দিন কলকাতা মেট্রোর এই করিডরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ইস্পাতের থার্ড রেল ব্যবহার করা হতো। প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে গত তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে এই ইস্পাত সরানোর কাজ চলছিল। ইস্পাতের তুলনায় অ্যালুমিনিয়ামের বিদ্যুৎ পরিবাহিতা অনেক বেশি। তা ছাড়া, ইস্পাতের রেলের মতো অ্যালুমিনিয়ামের রেল জোড়ার ক্ষেত্রে ঝালাইয়ের প্রয়োজন হয় না, বিশেষ পাত বসিয়ে সহজেই এগুলি যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কলকাতা মেট্রোর ইতিহাসে একে একটি বড় প্রযুক্তিগত বিপ্লব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সাশ্রয় এবং পরিষেবায় ইতিবাচক প্রভাব

এই পরিবর্তনের ফলে মেট্রো রেলে এক বিশাল অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামো গত সুফল মিলবে। অ্যালুমিনিয়াম থার্ড রেল ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ অপচয়ের পরিমাণ প্রায় ৮৪ শতাংশ হ্রাস পাবে, যার ফলে বছরে প্রায় এক কোটি টাকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে মেট্রো কর্তৃপক্ষের। এই আধুনিকীকরণের জন্য যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা আগামী তিন বছরের মধ্যে বিদ্যুতের সাশ্রয় থেকেই উঠে আসবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।

সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে যাত্রী পরিষেবায়। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকর ও স্থিতিশীল হওয়ার কারণে লাইনে ট্রেন চলাচলের গতিবেগ বৃদ্ধি পাবে। ফলে পিক-আওয়ারে ট্রেনের মধ্যকার সময়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে, যা নিত্যযাত্রীদের ভিড়ের চাপ সামলাতে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে বিশেষভাবে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *