রক্ষে কি এবার ভক্ষকের হাতে, বেআইনি নির্মাণ রুখতে পুরসভার ওপরই ভরসায় বড় বিতর্ক! – এবেলা

রক্ষে কি এবার ভক্ষকের হাতে, বেআইনি নির্মাণ রুখতে পুরসভার ওপরই ভরসায় বড় বিতর্ক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

এক সময় যাদের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ মদতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছিল বেআইনি নির্মাণ, তাদের কাঁধেই এবার সেইসব অবৈধ কাঠামো চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের এমন এক বিতর্কিত নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে টাকি পুর এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ারও ইঙ্গিত মিলেছে।

রক্ষকই যখন ভক্ষক

গত ১৫ মে রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে স্থানীয় পুর প্রশাসনকে অবিলম্বে তাদের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকার সমস্ত বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ। প্রশ্ন উঠছে, অতীতে যে চেয়ারম্যান বা পুর প্রতিনিধিরা আর্থিক সুবিধা বা স্বজনপোষণের কারণে এসব বেআইনি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন, তারা কীভাবে নিরপেক্ষভাবে নিজেদের অপরাধ বা নিজেদের লোকজনকে চিহ্নিত করবেন? ফলে সরকারি নির্দেশিকাটি কতখানি বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।

টাকিতে দুর্নীতির খতিয়ান

টাকি পুরসভা এলাকায় ইছামতির তীরে একের পর এক বেআইনি হোটেল ও গেস্টহাউস গড়ে ওঠার অভিযোগ দীর্ঘদিনের, যার বেশ কয়েকটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি একটি অডিট রিপোর্টে দেখা গেছে, টাকি পুরসভা নামমাত্র মূল্যে সরকারি জমি লিজ দিয়েছে। যেমন, বছরে মাত্র ১২০ টাকা লিজে একটি বিলাসবহুল রিসর্টকে জমি দেওয়া হয়েছে। আবার মাত্র ৪২০ টাকা বার্ষিক লিজে ৪ বিঘা জমি পেয়েছে একটি ইটভাটা, যার মালিক বর্তমান পুর চেয়ারম্যানের আত্মীয় বলে অভিযোগ। এছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আর্থিক তছরুপ, ভাসমান রেস্তোরাঁর নামে ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এবং এক ক্লার্কের অ্যাকাউন্টে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল টাকা ঢোকার মতো একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এই পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

এই নির্দেশিকার জেরে স্বাভাবিকভাবেই সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, দোষীদের দিয়েই যদি তদন্ত করানো হয়, তবে আসল সত্য কখনই সামনে আসবে না। এই পরিস্থিতিতে টাকি, বসিরহাট ও বাদুড়িয়ার মতো পুরসভাগুলির দুর্নীতি আড়াল করতে পুর প্রশাসনকে ব্যবহারের যে চেষ্টা চলছে, তা রুখতে মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জোরালো হচ্ছে। নির্দেশিকায় ওয়ার্ডভিত্তিক পরিদর্শন দল গঠন এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থার কথা বলা হলেও, মূল অভিযুক্তরাই তদন্তের দায়িত্বে থাকায় গোটা প্রক্রিয়াটিই প্রহসনে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *