রাজ্যের সব গার্লস স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন, বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক ঋতুস্রাব স্বাস্থ্যবিধি দিবসে বাংলার নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকার। রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও সরকার অনুমোদিত মেয়েদের স্কুলে এবার বসানো হতে চলেছে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন। নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরকারের এই ব্লু প্রিন্টের কথা ঘোষণা করে জানিয়েছেন, কর্মস্থল থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান— সর্বত্র নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে নতুন সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
স্কুলে তৈরি হবে অ্যাসপিরেশনাল টয়লেট
সরকারের এই নতুন পরিকল্পনার অধীনে স্কুলগুলোতে সাধারণ শৌচাগারের পরিবর্তে আধুনিক ‘অ্যাসপিরেশনাল টয়লেট’ নির্মাণ করা হবে। ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথকভাবে তৈরি এই শৌচাগারগুলোতে থাকবে পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা, হ্যান্ডওয়াশ, স্যানিটারি ন্যাপকিন ডিসপেনসার এবং ব্যবহৃত প্যাড পরিবেশবান্ধব উপায়ে দ্রুত ধ্বংস করার জন্য ‘প্যাড ইনসিনেরেটর মেশিন’। একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আচমকা ঋতুস্রাব শুরু হলে দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ নারী প্যাডের অভাবে সমস্যায় পড়েন এবং ৯০ শতাংশ নারীই চান শৌচাগারে প্যাডের ব্যবস্থা থাকুক। এই বাস্তব পরিস্থিতিকে বিবেচনা করেই রাজ্য সরকার দ্রুত এই পরিকাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সহায়তার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ
এই প্রকল্পকে আরও ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী করতে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতার হাত বাড়াচ্ছে রাজ্য। আগামী ৩০ মে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবার কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার। তাঁর সফরকালেই রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বাংলার নারীদের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি বিস্তারিত রূপরেখা ও ফাইল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন। মূলত কেন্দ্রীয় অনুদান ও সহায়তার মাধ্যমে গ্রামীণ এবং শহরতলীর স্কুলগুলোতে এই আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত পরিকাঠামো দ্রুত পৌঁছে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।
প্রভাব ও সচেতনতার বার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুলে সঠিক ঋতুস্রাব স্বাস্থ্যবিধির অভাব এবং লোকলজ্জার কারণে প্রতি বছর বহু ছাত্রী নির্দিষ্ট দিনগুলোতে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়, যা তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ছাত্রীদের স্কুলছুটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকার কিশোরীদের মধ্যে ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং এটি নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
