দুর্নীতির কালিমায় ম্লান ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরীর মঞ্চ, বিশ্বমঞ্চে অনন্য নজির গড়ে সড়ে দাঁড়াল মিস ফ্রান্স! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস ইউনিভার্স’ এবার জড়িয়ে পড়েছে গভীর বিতর্কের আবর্তে। অতীতের গৌরব ও নৈতিকতা বিসর্জন দেওয়ার অভিযোগে এই ঐতিহ্যবাহী মঞ্চ বয়কটের ঘোষণা করেছেন মিস ফ্রান্স হিনাউপোকো দেভেজে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার চেয়ে নিজের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা অনেক বেশি জরুরি—এমন কড়া বার্তা দিয়ে ফরাসি সুন্দরীর এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ১৯৫২ সালে পথচলা শুরুর পর থেকে এই প্রথমবার মিস ইউনিভার্সের মঞ্চ বয়কট করল ফ্রান্স।
বিতর্কের সূত্রপাত ও দুর্নীতির অভিযোগ
মিস ফ্রান্সের এই আকস্মিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত বছরের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্ক। গতবার মেক্সিকোর ফতিমা বশ ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরীর খেতাব অর্জন করার পর থেকেই নানামুখী প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, ফতিমা নিজের যোগ্যতাবলে নয়, বরং তাঁর বাবার প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়ে এই বহুমূল্য খেতাব ‘কিনেছেন’। প্রতিযোগিতার আগে ফতিমা নির্দেশ মেনে সোশ্যাল মিডিয়া রিল না বানানোর কারণে আয়োজকদের শীর্ষ কর্তা তাঁকে জনসমক্ষে ‘বোকা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। অথচ, ঘটনাচক্রে সেই ফতিমাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন, যা এই প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।
সুদূরপ্রসারী প্রভাব ও নৈতিকতার লড়াই
মিস ফ্রান্স আয়োজক কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বিগত একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে ফরাসি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। কিন্তু মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে সেই মূল্যবোধ ধরে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আয়োজকদের বিরুদ্ধে লাগাতার বিতর্ক, অব্যবস্থাপনা এবং এমনকি ফৌজদারি অভিযোগও রয়েছে। ফরাসি সুন্দরীর এই সাহসী পদক্ষেপকে নেটদুনিয়ায় বিপুলভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ফ্রান্সের এই ঐতিহাসিক বয়কটের পর বিশ্বমঞ্চে মিস ইউনিভার্সের গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং নৈতিকতার খাতিরে আগামী দিনে অন্যান্য দেশের প্রতিযোগিরাও এই মঞ্চ বর্জনের পথ বেছে নিতে পারেন।
