কাঁটাতারের সুরক্ষায় এবার ফুটবে বিয়ের ফুল, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জমিদানে মাতলেন গ্রামবাসীরা – এবেলা

কাঁটাতারের সুরক্ষায় এবার ফুটবে বিয়ের ফুল, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জমিদানে মাতলেন গ্রামবাসীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এক বিস্তীর্ণ অংশ দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত থাকায় জলপাইগুড়ির দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নলজোয়া ও ভুজারিপাড়ার বাসিন্দাদের জীবনে দীর্ঘদিনের এক বড় সমস্যা ছিল সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দোরগোড়ায় ‘উদোম’ বা খোলা সীমান্ত থাকায় এই অঞ্চলের যুবক-যুবতীদের বিয়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল নিরাপত্তার অভাব। পাত্রী বা পাত্রপক্ষ সীমান্ত ঘেঁষা এই গ্রামগুলির ঘরবাড়ি দেখে নিরাপত্তার অভাবে বিয়ে ভেঙে দিত। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে চলেছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া গতি পাওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।

নিরাপত্তার অভাব ও সামাজিক সংকট

জলপাইগুড়ি শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মানিকগঞ্জ ফাঁড়ির অন্তর্গত দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রামের প্রায় ১৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। বিএসএফ এবং পুলিশের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় রাত নামলেই গ্রামবাসীদের মনে এক অজানা আতঙ্ক কাজ করত। ভৌগোলিক এই অরক্ষিত অবস্থার প্রভাব সরাসরি পড়ত এখানকার সামাজিক সম্পর্কে। এলাকার বহু পরিবারের ছেলেমেয়েদের বিয়ের পাকা কথা হওয়ার পরেও শুধুমাত্র খোলা সীমান্তের ত্রাসের কারণে তা ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

জমিদানে অকৃপণ গ্রামবাসীরা ও অর্থনৈতিক স্বস্তি

দেশ ও নাগরিকদের সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন রাজ্য সরকার বিএসএফ-কে জমি দিতে সম্মতি জানানোর পর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগে শামিল হয়ে নলজোয়া ও ভুজারিপাড়ার বাসিন্দারা নিজেদের জমি দিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন। ইতিমধ্যেই এলাকার ৬৫টি পরিবার জমির দানপত্রে স্বাক্ষর করেছেন এবং সীমান্ত এলাকার জমি জরিপের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বিঘা প্রতি ৮ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করায় জমিদাতারাও এই ক্ষতিপূরণে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত অপরাধ হ্রাস পাবে, অন্যদিকে তেমনি নিশ্চিত হবে স্থানীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা। গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের আশা, এই স্থায়ী সুরক্ষাবলয় তৈরি হলে সীমান্তপাড়ের গ্রামগুলির সামাজিক অপবাদ ঘুচবে এবং এলাকার যুবক-যুবতীদের বিয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সামাজিক বাধা দূর হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *