সোমবারই রাজভবনে মেগা শপথ, শুভেন্দুর ক্যাবিনেটে আদি ও নব্যদের ভারসাম্য রক্ষার কঠিন পরীক্ষা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ১ জুন, সোমবার রাজভবনে ১০ থেকে ১২ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ মাত্র ছয়জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। এত ছোট মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। অবশেষে সোমবারের এই শপথগ্রহণের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার আকার ও পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে চলেছে।
ভারসাম্য রক্ষার কৌশল ও সম্ভাব্য নতুন মুখ
দলীয় সূত্রে খবর, সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় বিজেপির আদি ও নবাগত—উভয় শিবিরের বিধায়কদেরই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন মন্ত্রীদের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত, যাঁকে উচ্চশিক্ষা দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জোর জল্পনা চলছে। তাঁর সহযোগী হিসেবে বা পৃথকভাবে স্কুলশিক্ষা দফতরের দায়িত্ব পেতে পারেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।
উত্তরবঙ্গ থেকে ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, বাম আমলের পঞ্চায়েত দফতর পরিচালনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চাকদহের বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষের হাতে পূর্ত বা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের দায়িত্ব যেতে পারে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাটের হাতে সেচ দফতরের ভার দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন। বীরভূম জেলা থেকেও ধ্রুব সাহা এবং শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে, যেখানে জগন্নাথবাবু পরিবহণ দফতর পেতে পারেন।
কলকাতা ও অন্যান্যদের অন্তর্ভুক্তি
স্বাস্থ্য দফতর আপাতত মুখ্যমন্ত্রী নিজের কাছেই রাখতে পারেন, সে ক্ষেত্রে ইন্দ্রনীল খাঁ এবং শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বা আয়ুষ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কলকাতা থেকে মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়ের নাম আলোচনায় থাকলেও তিনি কলকাতার মেয়র পদে বেশি আগ্রহী বলে শোনা যাচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। এছাড়া সংস্কৃতি জগতের দুই পরিচিত মুখ রুদ্রনীল ঘোষ এবং পাপিয়া অধিকারীসহ বেহালার বিধায়ক শংকর শিকদারের নামও সম্ভাব্য তালিকায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
প্রশাসনিক গতি ও রাজনৈতিক প্রভাব
মাত্র ছয়জন মন্ত্রী নিয়ে এতদিন যেভাবে কাজ চলছিল, তাতে সরকারের প্রশাসনিক গতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ধীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতর স্থায়ী মন্ত্রী পাবে, যা সরকারি কাজে গতি আনবে। বিশেষ করে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আলাদা গতি আসবে। রাজনৈতিকভাবে, আদি ও নবাগত নেতাদের একসঙ্গে মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব দলের ভেতরের অসন্তোষ দূর করার এবং সব পক্ষকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সব অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করে রাজ্যজুড়ে সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করাই এখন শুভেন্দু সরকারের মূল লক্ষ্য।
