ব্রিটেনে চাকরি কাড়ছেন ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকরা, ব্রিটিশ সাংসদের বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যে তুমুল ঝড় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ব্রিটেনের শ্রমবাজারে অভিবাসীদের প্রভাব এবং কর্মসংস্থান নিয়ে ডানপন্থী ব্রিটিশ সাংসদ রুপার্ট লোয়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি অভিবাসীরা এসে ব্রিটেনের স্থানীয় নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কেড়ে নিচ্ছেন। দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের লক্ষ্য করে করা এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অভিবাসন নীতি এবং কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুপার্ট লো দাবি করেন, বিদেশি কর্মীদের ক্রমাগত সংখ্যাবৃদ্ধির ফলে স্থানীয় ব্রিটিশরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তান থেকে আসা বিপুল সংখ্যক কর্মী ব্রিটেনের শ্রমবাজারে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া
রুপার্ট লোয়ের এই বক্তব্য সামনে আসার পরপরই বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সমালোচকদের একাংশ একে স্পষ্টত বিভাজনমূলক ও বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এবং সমাজে তাঁদের বিরুদ্ধে একটি নেতিবাচক ও বিদ্বেষী মনোভাব তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, অভিবাসন ইস্যুকে হাতিয়ার করে সস্তা জনসমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যেই সুপরিকল্পিতভাবে এই মন্তব্য করা হয়েছে।
প্রভাব ও সামগ্রিক প্রেক্ষাপট
ব্রিটেনের রাজনীতিতে অভিবাসন দীর্ঘকাল ধরেই একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও প্রধান ইস্যু। কর্মসংস্থান, আবাসন সংকট, অর্থনীতি এবং সামাজিক ভারসাম্যের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রায়শই অভিবাসন বিরোধী প্রচার চালিয়ে থাকে। রুপার্ট লোয়ের এই মন্তব্য সেই ধারাকেই আরও উস্কে দিল, যা ব্রিটেনের বহুমাত্রিক সামাজিক কাঠামোতে ফাটল ধরাতে পারে।
তবে সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ভারতীয় ও পাকিস্তানি সম্প্রদায় কয়েক দশক ধরে ব্রিটেনের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা (এনএইচএস), প্রযুক্তি খাত এবং বড় বড় ব্যবসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই দক্ষ জনশক্তিকে ঢালাওভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ফলে ব্রিটেনের শ্রমবাজারে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব স্তরে এই বক্তব্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা ব্রিটেনের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জন্ম দিয়েছে।
