বিজেপির অন্দরেই কি তৃণমূলীকরণ, সংগঠন পোক্ত করতে জেলা সফরে শমীক – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/10/samik-bhattacharya-2026-05-10-14-40-05.jpg)
এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের পর দলীয় সংগঠনকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ বিজেপি নেতৃত্বের কাছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর তাদের বহু নেতা-কর্মী পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ রুখতে এবং সংগঠনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে গেরুয়া শিবির। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিভিন্ন জেলার নেতা, বিধায়ক এবং সাংগঠনিক পদাধিকারীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের পাশাপাশি লকেট চট্টোপাধ্যায়, শশী অগ্নিহোত্রীসহ একাধিক সাংসদকে বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দখলদারি ও দুর্নীতি রুখতে কড়া বার্তা
বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব বারবার দলের অভ্যন্তরে শুদ্ধকরণের কথা বলছে। নির্বাচনের পর হঠাৎ বিজেপি পরিচয় নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, দলের ভেতরের শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অনিয়মের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। দলের নেতাদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অহংকার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং দখলদারির রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে হবে। বিশেষ করে শ্রমিক সংগঠন, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং প্রোমোটারদের ঘিরে তৈরি হওয়া তথাকথিত ‘চাঁদাবাজির সংস্কৃতি’ রুখতে জেলা পর্যায়ে কড়া সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
তদারকিতে ১৫ সদস্যের জেলা কোর কমিটি
সংগঠনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে প্রতিটি জেলায় একটি করে ১৫ সদস্যের ‘কোর কমিটি’ গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। এই কমিটিতে সাংগঠনিক নেতৃত্বের পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়ক, সাংসদ এবং রাজ্যস্তরের প্রতিনিধিরা থাকবেন। জেলাস্তরের কোনো নেতা সরকারি দফতরে অযথা হস্তক্ষেপ করছেন কি না কিংবা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কি না, তার ওপর কড়া নজরদারি চালাবে এই কমিটি। নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য দলের দরজা বন্ধ। সব মিলিয়ে অন্য দল থেকে কর্মী ভাঙানোর চেয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখা এবং সুশাসন বাস্তবায়ন করাই এখন বিজেপির মূল অগ্রাধিকার।
