থ্রেট কালচারের দিন শেষ, চাকরি খুইয়ে ২০ লাখ টাকা জরিমানার মুখে ডাক্তার বিরূপাক্ষ বিশ্বাস! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা ক্ষেত্রকে কলঙ্কিত করা ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতির অন্যতম মূলহোতা ডাক্তার বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে অবশেষে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্যাথোলজি বিভাগের এই সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ও আর্থিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
শাস্তির কারণ ও আর্থিক জরিমানা
তদন্ত কমিটির পেশ করা রিপোর্টে বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও হুমকি সংস্কৃতির বিস্তারে সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তিনি সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর চুক্তিভিত্তিক মেয়াদের মাঝপথেই এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ম ও চুক্তিভঙ্গের কারণে স্বাস্থ্য দফতর তাঁকে ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি, তিনি কীভাবে ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে একটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব
আরজি কর হাসপাতালের নৃশংস ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক এবং পড়ুয়ারা ‘থ্রেট কালচার’ ও ‘নর্থবেঙ্গল লবির’ বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন শুরু করেন। তৎকালীন সরকার ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিরূপাক্ষকে সাময়িক সাসপেন্ড করলেও, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বর্তমান নতুন সরকার আসার পর তাঁকে একবারে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করল।
প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে দীর্ঘদিনের ভয়ের পরিবেশ দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। চিকিৎসা মহল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং থ্রেট কালচারের সাথে যুক্ত অন্য অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করতে সাহায্য করবে।
