হেলমেট পরেও মিলল না রেহাই, সোনারপুরে নজিরবিহীন ক্ষোভের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার এলাকায় পা রাখামাত্রই ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদকে লক্ষ্য করে চড়-ঘুষি, ডিম ও জুতো বৃষ্টি করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে মাথায় ক্রিকেটের হেলমেট গলিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আরজি কর কাণ্ড এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে মহিলাদের এই চরম ক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।
জনরোষের নেপথ্যে আরজি কর ও বঞ্চনার ইতিহাস
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে এই তৃণমূল সরকার কেবল চুরির সাম্রাজ্য চালিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টে দলের কোনো বড় নেতাকে পাশে পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভের পারদ আরও চড়েছে আরজি করের নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আন্দোলনকারী মহিলাদের দাবি, সরকার সর্বদা ধর্ষক ও দুর্নীতিবাজদের আড়াল করেছে। আরজি করের ঘটনার পর নির্যাতিতার বাড়িতে না গিয়ে এখন ভোটের পর নাটক করতে মৃত কর্মীর বাড়িতে আসা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশের বিস্ফোরক অভিযোগ, কোনো বকেয়া টাকা বা কাটমানি উসুল করতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে এসেছেন, অন্যথায় সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর কোনো দয়া নেই।
নাটকীয় পরিস্থিতি ও আক্রমণের বিবরণ
শনিবার সকাল থেকেই সিআইডি নোটিস পর্ব নিয়ে কলকাতায় টানটান উত্তেজনা ছিল। সেই পর্ব মিটিয়ে চারচাকা গাড়ি ছেড়ে বাইকে চেপে সোনারপুরের গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করতেই উন্মুত্ত জনতার মুখে পড়েন অভিষেক। সকাল থেকে হাতে কাঁচা ডিম ও কালো পতাকা নিয়ে তৈরি থাকা বিক্ষোভকারীরা তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে শারীরিক আক্রমণ চালায়। সাংসদের মাথা ও পিঠ লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি আঘাত করা হয়। এই নজিরবিহীন হামলার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁকে মারার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তিনি এই বিষয়ে সরাসরি হাইকোর্ট ও রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনার ফলে এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। আরজি কর কাণ্ডের পর থেকে জনমানসে যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এই ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রামীণ স্তরে দলের জনসংযোগের অভাব এবং প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থা আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে এবং ওই মৃত কর্মীর বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।
