আইটির ম্যানেজার এখন অটো চালক, তরুণীর সাহসিকতার গল্পে বুঁদ নেটপাড়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি সেক্টরের লোভনীয় চাকরি, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর করপোরেট জীবনের জৌলুস ছেড়ে কেউ থ্রি-হুইলার বা অটো চালানোর মতো পেশা বেছে নিতে পারেন, তা হয়তো অনেকের ভাবনারও অতীত। কিন্তু এমনই এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাজমাধ্যমে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন এক তরুণী। দীর্ঘ ৯ বছর একটি নামী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় সুনামের সঙ্গে ম্যানেজারের দায়িত্ব সামলানোর পর, সেই নিশ্চিত ক্যারিয়ারকে বিদায় জানিয়ে তিনি এখন একজন পেশাদার অটো চালক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এই জীবনের গল্প ভাইরাল হতেই তা নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছে।
যান্ত্রিকতার বেড়াজাল বনাম মানসিক শান্তি
উচ্চপদস্থ করপোরেট চাকরি ছেড়ে এই পেশা বেছে নেওয়ার পেছনে তরুণী মূলত তাঁর মানসিক ক্লান্তি ও যান্ত্রিক জীবনযাত্রাকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, প্রতিদিনের অতিরিক্ত কাজের চাপ, কর্পোরেট সংস্কৃতির মানসিক পীড়ন এবং প্রতিনিয়ত ছুটে চলার ইঁদুরদৌড় তাঁর জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। এছাড়া পুরুষ-শাসিত করপোরেট কাঠামোর ভেতরে একজন নারী হিসেবে যেসব অদৃশ্য দেওয়াল ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়, দীর্ঘ ৯ বছরে তার সবকটিই তিনি গভীরভাবে অনুভব করেছেন। মূলত এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতেই তিনি চাকরি ছাড়ার মতো একটি চরম অথচ সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।
নতুন পেশার সাফল্য ও সামাজিক বার্তা
অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন আইটির চাকরি ছেড়ে অটো চালালে আয়ের পথ সংকুচিত হয়, কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। বর্তমানে অটো চালিয়ে ওই তরুণী প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন, যা একজন মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবীর আয়ের সমতুল্য। তবে আয়ের অঙ্কের চেয়েও তাঁর কাছে এখন বড় হয়ে উঠেছে নিজের স্বাধীনতা ও মানসিক শান্তি। সমাজমাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মানুষ সাধারণত পদমর্যাদা, প্রতিপত্তি আর সামাজিক যশের পেছনে অন্ধের মতো ছোটে, কিন্তু জীবনের আসল সার্থকতা লুকিয়ে আছে মনের তৃপ্তিতে।
এই ঘটনার বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, আধুনিক কর্মক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের একাংশ এখন সামাজিক স্বীকৃতির চেয়ে মানসিক স্বাস্থ্যকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ওই তরুণীর এই সাহসী পদক্ষেপ প্রচলিত সামাজিক ধ্যানধারণাকে যেমন চ্যালেঞ্জ করেছে, তেমনই প্রমাণ করেছে যে কোনো কাজই ছোট নয়, যদি তা মানুষকে প্রকৃত শান্তি ও সম্মানের জীবন দিতে পারে।
