আদর্শ হারিয়ে সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠছে তৃণমূল! আসামে ঘাসফুলে বড়সড় ভাঙন ধরালেন অভিজিৎ মজুমদার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আসামে বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির বিরুদ্ধে তীব্র সাম্প্রদায়িকতা এবং ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করলেন আসাম তৃণমূলের প্রধান অভিজিৎ মজুমদার। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দলের সাথে যুক্ত থাকার পর, অবশেষে ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন এই প্রবীণ নেতা। শুক্রবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় এবং বিজেপি সরকার গঠনের পর, আসামের এই হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
আদর্শচ্যুতি ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির অভিযোগ
দীর্ঘদিন ধরে আসামে তৃণমূলের সংগঠনকে টিকিয়ে রাখার নেপথ্যে অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন অভিজিৎ মজুমদার। দল ছাড়ার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানান, তৃণমূল এখন তার মূল আদর্শ হারিয়ে ফেলেছে। সব সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে দলটি এখন সম্পূর্ণভাবে একটি নির্দিষ্ট ‘মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের’ পিছনে ছুটছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি শেরমান আলির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একাধিক দল থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর ভোটের ঠিক আগে শেরমান আলিকে দলে নেওয়া হয় এবং একটি মুসলিম প্রধান কেন্দ্র থেকে জেতানো হয়। এই ধরনের সিদ্ধান্ত দলের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করেছে বলে তাঁর দাবি।
হিন্দু বাঙালিদের স্বার্থরক্ষায় ব্যর্থতা ও বঙ্গ-কেন্দ্রিকতা
অভিজিৎ মজুমদারের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস নিজেকে সর্বভারতীয় দল হিসেবে দাবি করলেও বাস্তবে এটি পুরোপুরি একটি বঙ্গ-কেন্দ্রিক আঞ্চলিক দল। দলের সমস্ত সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়, যার ফলে আসামের মতো রাজ্যগুলো সবসময় কোণঠাসা ও অবহেলিত থেকে গেছে। একজন হিন্দু বাঙালি নেতা হিসেবে তিনি নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও সুরক্ষার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করলেও, দলের বর্তমান নীতিসমূহ হিন্দুদের স্বার্থের পরিপন্থী হয়ে উঠেছে। দল নিজের প্রতিষ্ঠার আদর্শের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করায় বিবেক দংশন থেকেই তিনি এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তৃণমূলে ক্রমবর্দ্ধমান সাংগঠনিক ফাটল
আসামে শূন্য থেকে দল গড়ে তোলা এই নেতার পদত্যাগ উত্তর-পূর্ব ভারতে তৃণমূলের অস্তিত্বকে এক বড়সড় সঙ্কটের মুখে দাঁড় করাল। কিছুদিন আগেই তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সর্বভারতীয় তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। যদিও তিনি দলের সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করার কথা জানান। তবে অভিজিৎ মজুমদারের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের কোনো অস্তিত্ব না থাকা অবস্থা থেকে তিনি আসামে সংগঠন তৈরি করেছিলেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তিনি দলটির সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক শীর্ষ নেতৃত্বের এই ক্ষোভ ও দলত্যাগ তৃণমূলের অন্দরে গভীর সাংগঠনিক ফাটলকেই স্পষ্ট করে তুলছে, যা আগামী দিনে দলটির সর্বভারতীয় বিস্তারের স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।
