পাকা বাড়ি বা বাইক থাকলে মিলবে না অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? তোলপাড়ের মাঝেই আসল সত্য স্পষ্ট করলেন মন্ত্রী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে নতুন সামাজিক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু হতেই ফর্ম পূরণকে কেন্দ্র করে উপভোক্তাদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আবেদনপত্রে বাইক, চারচাকা গাড়ি কিংবা পাকা বাড়ির ঘরের সংখ্যার মতো ব্যক্তিগত তথ্যের উল্লেখ চাওয়াতেই মূলত এই গুঞ্জন ছড়ায়। সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, নিজস্ব সম্পত্তি বা পাকা বাড়ি থাকলে হয়তো এই প্রকল্পের মাসিক ৩,০০০ টাকা পাওয়া যাবে না। রাজ্যজুড়ে চলা এই তুমুল জল্পনার অবসান ঘটাতে অবশেষে মুখ খুলেছেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
টাকা পাওয়ার আসল মাপকাঠি
আবেদনকারীদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ফর্মে সম্পত্তির বিবরণ চাওয়া হলেও এখনই বাইক বা ঘরের সংখ্যার জন্য কারও নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। আপাতত এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার একমাত্র প্রধান শর্ত হলো আবেদনকারী মহিলা বা তাঁর পরিবার আয়কর (Income Tax) জমা দেন কি না। আয়কর দাতা না হলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। ফর্মে সংগৃহীত অন্যান্য সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য মূলত সরকারি পোর্টালে ডিজিটাল নথি হিসেবে জমা থাকবে, যা পরবর্তীতে সরকারের অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পের রূপায়ণে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কাজে ব্যবহার করা হবে। সরকার কোনো দায়সারা কাজ করতে চায় না বলেই এই বিস্তারিত ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছে।
তথ্য গোপন করলেই আইনি জটিলতা
অনেকেই সুবিধা হারানোর ভয়ে ফর্মে নিজেদের গাড়ি বা সম্পত্তির তথ্য গোপন করার কথা ভাবছেন। এই বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী মা-বোনেদের সতর্ক করেছেন। তিনি জানান, ফর্মে দেওয়া প্রতিটি তথ্য পরবর্তী সময়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, তবে তাঁর প্রোফাইলে ‘ব্ল্যাক স্পট’ বা কালো দাগ পড়ে যাবে। এর ফলে আবেদনকারী স্থায়ীভাবে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এবং পরবর্তীতে বড়সড় আইনি জটিলতার মুখেও পড়তে পারেন। তাই ফর্মে ১০০ শতাংশ সঠিক তথ্য দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের টাকা সাধারণ করদাতা ও সরকারের তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বিত্তবানদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। যাদের পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তাঁদের এই সুবিধা থেকে স্বেচ্ছায় দূরে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত গরিব ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের মহিলারাই এই ৩,০০০ টাকার সুবিধা পেতে পারেন।
