বাংলায় টাটাকে ফেরাতে নজিরবিহীন অ্যাকশনে নয়া সরকার, কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বড় চ্যালেঞ্জ বিজেপির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার বাংলায় শিল্পায়নের চাকা ঘোরাতে সরাসরি টাটা গোষ্ঠীর দরজায় কড়া নাড়ছে সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সরকার। বাম আমলে সিঙ্গুরে যে গাড়ি কারখানার স্বপ্ন অধরা থেকে গিয়েছিল, এবার তাকেই বাস্তব রূপ দিতে কোমর বেঁধে নামছে গেরুয়া শিবির। বিনিয়োগের পরিবেশ ফেরাতে টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বর্তমান শাসকদল। নতুন মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রত্যেকেই বাংলার হারানো অর্থনৈতিক গৌরব ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
শিল্পায়নে জোর ও টাটা মিশন
পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে ইঙ্গিত করে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজ্যে কোনো শিল্পপতি ব্রাত্য নন এবং রাজ্যের সামগ্রিক স্বার্থ কারও ব্যক্তিগত অহংকারের চেয়ে অনেক বড়। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন এবং টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এই শিল্পায়নের কর্মযজ্ঞে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও রাজ্যকে সবরকম সহযোগিতা করছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী দুজনেই চান অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের একটা ঐতিহাসিক পরিবর্তন হোক।
সিঙ্গুর বিতর্ক ও বিকল্প ভাবনা
নয়া সরকারের এই মেগা পরিকল্পনার কথা সামনে আসতেই অবধারিতভাবে সিঙ্গুর প্রসঙ্গ উঠে আসছে। তবে টাটা গোষ্ঠী তাদের সেই ঐতিহাসিক সিঙ্গুরেই নতুন করে কারখানা গড়বে কিনা, তা নিয়ে কিছুটা কৌশলী অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থান এখানে মূল বিষয় নয়। টাটা যদি সিঙ্গুরেই ফিরতে চায়, তবে সিঙ্গুরেই ফিরবে, অন্যথায় রাজ্যের অন্য কোনো উপযুক্ত জায়গায় তাদের জন্য জমির ব্যবস্থা করা হবে। আসল লক্ষ্য হলো টাটাকে বাংলায় ফিরিয়ে আনা, যা গোটা দেশের শিল্পমহলে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্গুর আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই রাজ্যে দীর্ঘ বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটেছিল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান হয়েছিল। ফলে ক্ষমতায় এসেই বিজেপি সরকার যদি টাটা গোষ্ঠীকে ফের বাংলায় নিয়ে আসতে পারে, তবে তা যেমন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের বড় দিশা দেখাবে, ঠিক তেমনই রাজনৈতিকভাবেও বিরোধীদের বড়সড় ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হবে। এখন দেখার, রাজ্যের এই ‘টাটা মিশন’ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়।
