একজনের বদলে তিন অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা, ডোমকলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দুর্নীতিতে শ্রীঘরে তৃণমূল নেত্রীর স্বামী – এবেলা

একজনের বদলে তিন অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা, ডোমকলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দুর্নীতিতে শ্রীঘরে তৃণমূল নেত্রীর স্বামী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে এবার বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ উঠল মুর্শিদাবাদের ডোমকলে। অন্যের নথি ব্যবহার করে একাধিক ভুয়ো অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাহানা বিশ্বাসের স্বামী শরিফুল ইসলামকে। ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনটি আলাদা অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সরকারি টাকা ঢুকিয়ে তা তুলে নিতেন ধৃত শরিফুল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের আড়ালে জালিয়াতি

তদন্তে জানা গেছে, ধৃত শরিফুল ইসলাম নিজে একটি গ্রাহক সেবা কেন্দ্র বা সিএসপি (CSP) চালাতেন। অভিযোগ, এই সিএসপি-র আড়ালেই চলত জালিয়াতির কারবার। অন্যের প্রয়োজনীয় নথি ভাড়া নিয়ে বা হাতিয়ে নিয়ে বেআইনিভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হতো। এরপর সরকারি অর্থ নির্দিষ্ট উপভোক্তার কাছে না পৌঁছে সরাসরি জমা হতো শরিফুলের নিয়ন্ত্রণে থাকা তিনটি অ্যাকাউন্টে। এই সংক্রান্ত বেশ কিছু অকাট্য তথ্য-প্রমাণ হাতে আসার পরেই পুলিশ চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তীব্র অস্বস্তিতে শাসকদল, সুর চড়াচ্ছে বিরোধী শিবির

এই কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় নেতৃত্ব এই ঘটনার দায় নিতে নারাজ। ডোমকলের তৃণমূল কোর কমিটির সদস্য বাসির মোল্লা স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযোগ অত্যন্ত মারাত্মক এবং সত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে, ধৃতের স্ত্রী তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাহানা বিশ্বাসও বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে থাকার দাবি করেছেন। তিনি জানান, এর আগে অভিযোগ ওঠায় বিডিও সাহেব শরিফুলের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছিলেন, তবে সিএসপি থেকে কোনো গন্ডগোল হয়েছে কি না তা পুলিশি তদন্তেই পরিষ্কার হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। সিপিআইএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানার দাবি, ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে এবং এখন তা ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই ঘটনাকে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের অর্থ এভাবে আত্মসাৎ হওয়ার ঘটনা প্রশাসনের অন্দরের নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। এই চক্রের গভীরে আর কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *