৩ হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার নামে প্রতারণা, তদন্তে নামল পুলিশ – এবেলা

৩ হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার নামে প্রতারণা, তদন্তে নামল পুলিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য সরকারের নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’কে হাতিয়ার করে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় সাইবার প্রতারকদের সক্রিয়তা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে জালিয়াত চক্র। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সাধারণ মানুষকে আর্থিক প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে শিলিগুড়ি পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় জোরকদমে জনসচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেছে প্রশাসন।

প্রতারণার কৌশল ও পুলিশের পাল্টা পরিকল্পনা

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর পুরোনো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পরিবর্তে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য প্রকাশিত ১২ পাতার আবেদনপত্রে নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। দ্রুত টাকা পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষ যখন এই ফর্ম পূরণের তোড়জোড় করছেন, ঠিক তখনই সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাইবার অপরাধীরা। বিশেষ করে মহিলাদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিতে প্রতারকরা নানারকম ফাঁদ পাতছে।

এই আধুনিক সাইবার অপরাধ সম্পর্কে প্রবীণ নাগরিকরা অনেকেই ওয়াকিবহাল নন। তাই এই প্রচারকে কার্যকর করতে পুলিশ অভিনব কৌশল নিয়েছে। স্কুল-কলেজের ‘জেন জি’ বা বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়ারা যেহেতু ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিতে অনেক বেশি পারদর্শী, তাই প্রথমে তাদের সচেতন করা হচ্ছে। এই ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমেই বার্তাটি প্রতিটি পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানীয় ক্লাব, সামাজিক সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে যুক্ত করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর কাজ চলছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রশাসনের সতর্কবার্তা

পুলিশের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়বে এবং প্রতারকদের পাতা ফাঁদে পা দেওয়ার প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সময়মতো এই জালিয়াতি রুখতে না পারলে বহু মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য পাচারের মতো মারাত্মক সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতি হতে পারত।

এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাগরিকদের কড়া বার্তা দিয়েছেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই ফোনের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস, প্যান নম্বর বা অন্য কোনো গোপন তথ্য কাউকে দেওয়া যাবে না। সরকারি অনুমোদিত প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কারও কাছে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে অচেনা নম্বর থেকে আসা কোনো সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করা এবং অপরিচিত কাউকে ওটিপি (OTP) শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *