হাসপাতালের সিইও-কে হুমকির অভিযোগ মমতার বিরুদ্ধে, উত্তাল বাংলার রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের এক মাস পরেও রাজনৈতিক অস্থিরতা থামার লক্ষণ নেই। গত ৪ মে বিপুল জনাদেশ নিয়ে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার সোনারপুরে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ও ডিম ছোড়ার পাশাপাশি মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর মিন্টো পার্কের বেলভিউ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা এবং পরবর্তীতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই হাসপাতালের সিইও-কে ফোন করে হুমকি দিয়েছেন।
ভাইরাল অডিও ঘিরে বিতর্ক
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও চাপের মুখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই একটি অডিও বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে এক মহিলার কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে এবং সেটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই অডিও ক্লিপে হাসপাতালের সিইও মিঃ ট্যান্ডনকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, “আপনি অন্যায় করেছেন। ঈশ্বর আপনাকে ক্ষমা করবেন না। আপনি হাসপাতাল চালাচ্ছেন এবং এখন কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আছে। কাল যদি কেন্দ্রীয় সরকার চলে যায়, আমরা ব্যাপারটা দেখে নেব।” এই অডিওর সত্যতা অবশ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা যেমন রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতিকে নির্দেশ করে, তেমনই একটি নামী হাসপাতালের প্রধানকে দেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরণের হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ চিকিৎসা ক্ষেত্রের সুরক্ষাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ওপর চাপ সৃষ্টির এই সংস্কৃতি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল বিজেপি এবং প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলের মধ্যে সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
