হোয়াটস অ্যাপ হ্যাক করে চাওয়া হচ্ছে টাকা, প্রতারকদের খপ্পরে আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। হ্যাকাররা তাঁর অ্যাকাউন্টটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরিচিতদের কাছে টাকা দাবি করছিল। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অধিকর্তা নিজেই সকলকে সতর্ক করেছেন এবং সাইবার ক্রাইম থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনার পর থেকে গোটা আইআইটি চত্বর, শিক্ষক, পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে, তাঁর অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করে পরিচিতদের কাছে ভুয়ো বার্তা পাঠিয়ে অর্থ চাওয়া হচ্ছিল। তিনি সকলকে এই ধরণের বার্তার জবাব না দিতে এবং কোনো টাকা না পাঠাতে অনুরোধ করেছেন। বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় অ্যাকাউন্টটি আংশিক পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলেও, কিছু তথ্য এখনও উদ্ধার করা যায়নি।
প্রতারণার কৌশল ও কারণ
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে পরিচিতদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত ব্যবহারকারীদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে, ফিশিং লিঙ্ক বা ওটিপি (OTP) জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারকরা অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। এরপর অ্যাকাউন্টের মালিকের পরিচিতদের আবেগ ও বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে জরুরি প্রয়োজনের অজুহাতে দ্রুত টাকা পাঠানোর ফাঁদ তৈরি করা হয়।
সম্ভাব্য প্রভাব ও উদ্বেগ
আইআইটির মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তার সাইবার সুরক্ষায় এমন গলদ নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ও ডেটা চুরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিগত কয়েক বছরে রাজ্য তথা দেশজুড়ে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের নাম ব্যবহার করে এই ধরণের অনলাইন জালিয়াতি বেড়েছে। খড়গপুরের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষাবিদরাও সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে নিরাপদ নন, যা ভবিষ্যতে অনলাইন লেনদেন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস এবং আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
