শনিবার মধ্যরাতে রণক্ষেত্র দমদম, বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো স্টেশন চত্বরের শতাধিক অবৈধ দোকান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হাওড়া ও শিয়ালদহের পর এবার রেলের উচ্ছেদ অভিযানের কোপ পড়ল দমদম জংশন স্টেশনে। শনিবার মধ্যরাতে বিশাল পুলিশ ও রেল পুলিশের (আরপিএফ) বাহিনী নিয়ে দমদম স্টেশন এবং সংলগ্ন এলাকায় চালানো হলো এক মেগা উচ্ছেদ অভিযান। নামানো হয় বুলডোজার। স্টেশন প্ল্যাটফর্মের অবৈধ দোকানপাট ভাঙার পাশাপাশি বাইরের রাস্তা দখল করে থাকা একের পর এক দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতেই তুমুল উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা ছড়ায় দমদম স্টেশন চত্বরে।
উচ্ছেদের কারণ ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন
রেল আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই দমদম স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এবং বাইরের রাস্তা দখল করে বেআইনিভাবে ব্যবসা চলছিল। এর ফলে স্টেশনের পরিসর ছোট হয়ে আসছিল এবং নিত্যযাত্রীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অতীতে একাধিকবার রেলের তরফে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হলেও রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। আধিকারিকদের দাবি, রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের মদতেই এই বেআইনি জবরদখল কায়েম ছিল। তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক সরকার বদলের তিন সপ্তাহের মধ্যেই এই কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। দিনকয়েক আগেই রেলের পক্ষ থেকে হকারদের এলাকা খালি করার নোটিস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও দোকান না সরানোয় শেষমেশ বুলডোজার নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মধ্যরাতের প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
অভিযানের খবর পেয়েই উচ্ছেদ রুখতে মরিয়া চেষ্টা চালান স্থানীয় হকার ও ব্যবসায়ীরা। এর আগে তৃণমূল ও সিপিএমের শ্রমিক সংগঠনগুলি বৈঠক করে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করলেও, শনিবার মধ্যরাতের অতর্কিত অভিযানে তারা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের চরম ধস্তাধস্তি শুরু হলে বিশাল পুলিশ বাহিনী বিক্ষোভকারীদের দূরে সরিয়ে দেয় এবং ঘেরাটোপ তৈরি করে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
এই অভিযানের ফলে একদিকে দমদম স্টেশন চত্বর যেমন যানজট ও ভিড়মুক্ত হবে, অন্যদিকে তেমনই হঠাৎ করে রুটিরুজি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন কয়েকশো ব্যবসায়ী পরিবার। পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ নিয়ে আগামী দিনে স্টেশন চত্বরে বাম-তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনগুলি বড়সড় আন্দোলনে নামতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
