সল্টলেকে ফ্ল্যাট দখল ঘিরে চরম উত্তেজনা, তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের স্ত্রীকে চড় বাড়িওয়ালার – এবেলা

সল্টলেকে ফ্ল্যাট দখল ঘিরে চরম উত্তেজনা, তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের স্ত্রীকে চড় বাড়িওয়ালার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সল্টলেকে দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাট দখল করে রাখার অভিযোগ এবং তার জেরে তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের স্ত্রীকে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘর না ছাড়া এবং নামমাত্র ভাড়া দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাড়িওয়ালার সঙ্গে এই বিবাদের সূত্রপাত। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই অনভিপ্রেত ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাননি তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার।

দীর্ঘদিনের বিবাদ ও হাতাহাতি

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেক এলাকার ওই ফ্ল্যাটটিতে দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে ভাড়া থাকেন জয়প্রকাশ মজুমদার। ফ্ল্যাটের মালিকের অভিযোগ, গত ১৪ বছর ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফ্ল্যাটটি আটকে রাখা হয়েছে এবং যথাযথ ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল না। একাধিকবার ফ্ল্যাট খালি করার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও কোনো কাজ হয়নি। সম্প্রতি ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী বেশ কিছু লোকজন নিয়ে এসে ঘর ছাড়ার দাবি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে জয়প্রকাশ মজুমদারের স্ত্রীর সঙ্গে বাড়িওয়ালার স্ত্রীর হাতাহাতি বেঁধে যায় এবং তখনই তৃণমূল নেতার স্ত্রীকে চড় মারা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, সোফায় বসে থাকা অবস্থায় জয়প্রকাশের স্ত্রীকে সজোরে চড় মারছেন বাড়িওয়ালার স্ত্রী, এবং তৎক্ষণাৎ মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসছেন তাঁর ছেলে।

তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বেআইনি নির্মাণ এবং জোরপূর্বক দখলদারির বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। সরকারি জমি ও ঘর দখলমুক্ত করতে রাজ্যজুড়ে একের পর এক পদক্ষেপ করা হচ্ছে, যার আওতায় এসেছে বহু রাজনৈতিক কার্যালয়ও। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিজস্ব সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করতে সশরীরে মাঠে নামেন ওই ফ্ল্যাট মালিকের পরিবার। তবে এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি দখল করার মানসিকতার বিরুদ্ধে জনমানসে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হাতাহাতি বা মারধরের এই ঘটনা সল্টলেকের মতো শান্ত আবাসিক এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *