ভাতা বন্ধের কোপ এবার মহারাষ্ট্রে, ‘লড়কি বহিন যোজনা’ থেকে বাদ পড়লেন ৮০ লক্ষ মহিলা! – এবেলা

ভাতা বন্ধের কোপ এবার মহারাষ্ট্রে, ‘লড়কি বহিন যোজনা’ থেকে বাদ পড়লেন ৮০ লক্ষ মহিলা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মহারাষ্ট্রে মহিলাদের আর্থিক সহায়তার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া ‘লড়কি বহিন যোজনা’ নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজ্যের এনডিএ সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই প্রকল্প থেকে এক ধাক্কায় প্রায় ৮০ লক্ষ মহিলার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সুবিধাভোগীদের সংখ্যা এক লপ্তে বিপুল হারে হ্রাস পেল। একই সঙ্গে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই প্রকল্পের জন্য নতুন করে ই-কেওয়াইসি (e-KYC)-র সময়সীমা বাড়ানো বা নতুন কোনও সুবিধাভোগী যুক্ত করার পরিকল্পনা আপাতত নেই।

কেন বাদ পড়ল বিপুল সংখ্যক নাম?

মহারাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ২.৪৬ কোটি মহিলা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো। কিন্তু প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অযোগ্য সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে সম্প্রতি নতুন করে নথি যাচাই ও ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া চালু করা হয়। সরকারি রিপোর্ট বলছে, যে ৮০ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের বেশিরভাগেরই নথি ভুল ছিল অথবা তথ্য আসাম্পূর্ণ ছিল। এছাড়া বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, নির্ধারিত সীমার চেয়ে আয় বেশি থাকা সত্ত্বেও অনেকে এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন। ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সত্ত্বেও যাঁরা তা করেননি, তাঁদের চূড়ান্তভাবে অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

ভাতা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

মহারাষ্ট্রের এই ঘটনা যখন জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গেও মহিলাদের আর্থিক সহায়তামূলক প্রকল্প নিয়ে চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পূর্বতন তৃণমূল জমানার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ করে নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেখানেও ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ আবেদনকারীকে অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই নতুন প্রকল্পের জন্য মহিলাদের একটি জটিল ১৩ পাতার ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে, যেখানে পরিবারের আয়সহ একধিক খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘ ফর্ম ও কড়া যাচাই প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মহিলাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গ—উভয় রাজ্যেই সরকারি কোষাগারের চাপ কমাতে এবং প্রকৃত স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া আগামী দিনে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *