পরমাণু অস্ত্র বানাবে না ইরান, ট্রাম্পের দাবিতে যুদ্ধ থামার জল্পনা তুঙ্গে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আলো দেখা যেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আর কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তারা আমেরিকার দেওয়া শর্তে রাজি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিবৃতির পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ওয়াশিংটনের তীব্র চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করল তেহরান?
আমেরিকার শর্ত ও ট্রাম্পের দাবি
দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও বেশ কিছু কঠিন শর্তের কারণে কোনো সমঝোতা আসছিল না। ওয়াশিংটনের মূল শর্ত ছিল, হরমুজ প্রণালীতে অবাধে জাহাজ চলাচল করতে দিতে হবে, তেহরানের কাছে থাকা সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে হস্তান্তর করতে হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। এর আগে ইরান এই শর্তগুলো মানতে সরাসরি অস্বীকার করলেও পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। শনিবার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত সম্মতি জানিয়েছে তেহরান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করা এবং ইরান সেই নিশ্চয়তা দিতে রাজি হয়েছে।
যুদ্ধের কারণ ও পরমাণু অস্ত্রের ঝুঁকি
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামকে সামান্য পরিশোধন করলেই একাধিক শক্তিশালী পরমাণু বোমা তৈরি করা সম্ভব। ইরানের ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রে এই ইউরেনিয়ামের সিংহভাগ মজুত রয়েছে এবং সেখানে মার্কিন সেনা নতুন করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল। সামরিক ও অর্থনৈতিক এই দ্বিমুখী সংকটের কারণেই ইরান নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব
যদি ট্রাম্পের এই দাবি সত্যি হয় এবং ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ থেকে সরে আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটতে পারে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ওয়াশিংটনের হাতে চলে গেলে ইজরায়েলসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর দাবির বিপরীতে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে এই চুক্তির স্থায়িত্ব এবং যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নের ওপরই এখন পুরো বিশ্বের নজর রয়েছে।
