দল বদলেছে বাংলায়, এবার কি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার? সোমবারই মন্ত্রিসভার মহাজাতিক সম্প্রসারণ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের এক মাস পার হতে চললেও এখনও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি রাজ্য মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ মাত্র ৫ জন মন্ত্রী নিয়ে এতদিন কাজ চলছিল। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সোমবারই রাজভবনে নতুন মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে চলেছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রশাসনিক কাজে গতি আনতেই এই দ্রুত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজেপির অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, এবার মোট ৩৩ জনের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা ও জনজাতির সমীকরণকে বজায় রাখার চেষ্টা করছে নতুন শাসক দল। লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে প্রশাসনিক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।
গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বর্ষীয়ানরা, তালিকায় চেনা মুখ
সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে রাসবিহারীর বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান নেতা স্বপন দাশগুপ্তের নাম। ইতিমধ্যেই তাঁকে শিক্ষা দফতর দেখভালের বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে সোমবারের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কাঁধেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব উঠতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। এর পাশাপাশি মানিকতলার জয়ী বিধায়ক তথা অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ তাপস রায়কেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রিত্ব দেওয়া হতে পারে। নতুন সরকার গঠনের পর প্রোটেম স্পিকার হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে বিধানসভার প্রাথমিক কাজ পরিচালনা করেছেন তিনি।
এছাড়াও নতুন মুখের ভিড়ে জায়গা করে নিতে পারেন শঙ্কর ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, শারদ্বত টুডু, প্রণত টুডু, কল্যাণ চক্রবর্তী, চন্দনা বাউড়ি, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অশোক দিন্দা এবং সুব্রত মৈত্র। তবে শেষ মুহূর্তে কার ভাগ্যে কোন দফতর জুটবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে।
প্রশাসনিক গতি ও রাজনৈতিক প্রভাব
এর আগে প্রথম দফায় দিলীপ ঘোষকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, অগ্নিমিত্রা পালকে নারী ও শিশুকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়ন, নিশীথ প্রামাণিককে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও ক্রীড়া, অশোক কীর্তনীয়াকে খাদ্য এবং ক্ষুদিরাম টুডুকে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৫ জন মন্ত্রীর পক্ষে গোটা রাজ্যের সব কটি দফতরের কাজ সামলানো কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়ছিল।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের ফলে স্তিমিত হয়ে পড়া সরকারি প্রকল্পগুলোতে নতুন করে গতি আসবে। বিশেষ করে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে স্থায়ী মন্ত্রী নিয়োগের ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করবে নতুন সরকার। একই সাথে নতুন ও অভিজ্ঞদের মিশ্রণে তৈরি এই সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
