ঘূর্ণাবর্তের জেরে উত্তাল দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলা, রবিবার ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের তাণ্ডব! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন এলাকার উপর অবস্থান করা একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্তের কারণে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে ঝড়বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার দক্ষিণবঙ্গের অন্তত সাতটি জেলায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সেই সঙ্গে জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এই তালিকায় রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান। এছাড়া হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদেও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণাবর্ত ও অক্ষরেখার জোড়া প্রভাব
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই আকস্মিক দুর্যোগের নেপথ্যে রয়েছে দ্বিমুখী বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাব। একদিকে পাকিস্তান থেকে শুরু করে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ় ও দক্ষিণ ওড়িশা হয়ে উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যন্ত একটি সুদীর্ঘ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। অন্যদিকে, মধ্য বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় সমুদ্রতল থেকে ১.৫ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এই দুইয়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে, যা দুই বঙ্গেই ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
পশশ্চাৎগামী বৃষ্টি ও তাপমাত্রার পারদ চড়ার ইঙ্গিত
সোমবারেও দুই মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে এই আবহাওয়া বজায় থাকবে। তবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি অংশে বৃষ্টির তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছে। রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৬ ডিগ্রি কমে ২৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। হাওয়া অফিসের ইঙ্গিত, আগামী ২৪ ঘণ্টা পর থেকে আবহাওয়া বদলাবে এবং দক্ষিণবঙ্গে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তী ছয় দিনে পারদ দুই থেকে তিন ডিগ্রি পর্যন্ত চড়ার কারণে গরম ও অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, মালদহ এবং দুই দিনাজপুরেও রবিবার বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে সেখানে আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও, আগামী বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গে পুনরায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হতে পারে এবং শুক্রবার থেকে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
