রক্তাক্ত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, চণ্ডীতলা থানার সামনে ধুন্ধুমার কাণ্ড রুখতে নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রবিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হুগলির চণ্ডীতলা থানা এলাকা। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেকার তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির জেরে রক্ত ঝরল শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি নামাতে হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
স্মারকলিপি প্রদান ঘিরে সংঘাতের সূত্রপাত
দলীয় সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকার বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাতে চণ্ডীতলা থানায় একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছিল শাসকদল। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন খোদ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তৃণমূলের এই মিছিল চণ্ডীতলা থানার সামনে পৌঁছাতেই সেখানে উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা তাঁদের লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
রক্তাক্ত সাংসদ ও প্রশাসনিক তৎপরতা
প্রাথমিক বাগ্বিতণ্ডা দ্রুত হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তৎপরতার সাথে আসরে নামেন। এই চরম বিশৃঙ্খলা ও ধস্তাধস্তির মাঝেই আচমকা মাথায় গুরুতর চোট পান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মাথা ফেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর চণ্ডীতলা থানা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক মাত্রায় জোরদার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এলাকায় পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বৈরিতা এবং সাম্প্রতিক গ্রেফতারির ঘটনাই এই সংঘাতের মূল কারণ। এই ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা যেমন তুঙ্গে উঠেছে, তেমনই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার দায় নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরের দিকে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করলেও, নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।
