তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল, কালীঘাটের হাইভোল্টেজ বৈঠকে নজর বাংলার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোটের ভরাডুবির পর চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সিপিএম বিরোধিতাকে সম্বল করে যে রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছিল, তা আজ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার বিকেলে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে ডাকা হয়েছে তৃণমূল পরিষদীয় দলের এক জরুরি বৈঠক। দলের নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়ককেই এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দিদি ও ‘দাদা’-র ডাকে শেষ পর্যন্ত কতজন বিধায়ক এই বৈঠকে যোগ দেবেন? দলের অন্দরের গুঞ্জন, আশি জনের মধ্যে তিরিশ জন বিধায়কও শেষ পর্যন্ত কালীঘাটে পৌঁছাবেন কি না, তা নিয়ে খোদ শীর্ষ নেতৃত্বই সন্দিহান। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতিতে এক মহা-ভাঙনের রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সোনারপুরের ঘটনা ও নেতৃত্বের দূরত্ব বৃদ্ধি
শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে দলীয় কর্মীদের দেখতে গিয়ে নজিরবিহীন হেনস্থার মুখে পড়েন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ও ডিম ছোড়া হয়। তবে এই ঘটনার চেয়েও রাজনীতিতে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে দলের নেতাদের রহস্যজনক অনুপস্থিতি। অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যেকোনো কর্মসূচিতে একঝাঁক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাকে পাশে দেখা গেলেও, শনিবার সোনারপুরে ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়েছে। বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষকে পাশে পেলেও, সোনারপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোনো প্রথম সারির নেতা বা বিধায়ককে তাঁর সঙ্গে দেখা যায়নি। সূত্র মারফত জানা গেছে, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে এবং অভিষেক নিজে ব্যক্তিগতভাবে একাধিক সাংসদ ও বিধায়ককে ফোন করলেও সিংহভাগ নেতাই নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যান। অনেকে মোবাইল ফোন স্যুইচ অফ বা কল ডাইভার্ট করে রাখেন। এমনকি ঘটনার পর ফেসবুকে নিন্দা জানিয়ে পোস্ট করার নির্দেশ দেওয়া হলেও, কুণাল ঘোষ ছাড়া বেশিরভাগ বিধায়কই তাতে সাড়া দেননি।
সংখ্যালঘু নেতাদের ডিগবাজি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই রাজনৈতিক সংকটের পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও টিকিট বণ্টন নিয়ে অসন্তোষকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই এবং গুরুত্ব নির্ধারণ নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনের এই ভরাডুবির পর সেই ক্ষোভই এখন বিদ্রোহের আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে বড় চমক তৈরি হয়েছে দলের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং প্রভাবশালী সংখ্যালঘু নেতাদের অবস্থান ঘিরে। বিশেষ করে কলকাতার দক্ষিণ ও পূর্ব অংশের দুই দাপুটে সংখ্যালঘু নেতা ক্রমশ দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছেন, যা তৃণমূলের চিরাচরিত ভোটব্যাংকে বড়সড় ধস নামাতে পারে। দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ এভাবে বদলে যাওয়ায় দলটির সাংগঠনিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজকের কালীঘাটের বৈঠক যদি কোনো কারণে বাতিল হয় বা বিধায়কদের উপস্থিতি নগণ্য থাকে, তবে তা বাংলার শাসক দলের চূড়ান্ত পতনের ইঙ্গিতবাহী হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
