ভাতায় MBBS, পুরুষ চিকিৎসকের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বিধবা ও বার্ধক্য ভাতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার যশরাজপুর এলাকায় এক নজিরবিহীন দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে। পেশায় গ্রামীণ চিকিৎসক ও সচ্ছল পরিবারের সদস্য অমলেন্দু বিকাশ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি একই সঙ্গে বার্ধক্য এবং বিধবা ভাতা ভোগ করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একজন পুরুষ হয়েও কীভাবে তিনি বিধবা ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন, তা নিয়ে বর্তমানে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এলাকায়।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে এলাহাবাদ ব্যাঙ্কে তাঁর বিধবা ভাতার টাকা এবং ২০২৩ সাল থেকে পাঞ্জাব ব্যাঙ্কে বার্ধক্য ভাতার টাকা নিয়মিত জমা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় স্তরে ব্যাপক শোরগোল ও হাসির রোল উঠেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের ভাই কমল কান্তি মণ্ডল স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি হওয়ায় এই ঘটনা রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে।
প্রশাসনের গাফিলতি বনাম রাজনৈতিক প্রভাব
এই নজিরবিহীন জালিয়াতির পেছনে সরকারি নজরদারির অভাবকে দায়ী করেছেন অভিযুক্তের ভাই। তাঁর দাবি, এটি সম্পূর্ণ সরকারি প্রশাসনের গাফিলতি। অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেছে যে, শাসক দলের নেতার দাদা হওয়ার সুবাদেই প্রভাব খাটিয়ে দিনের পর দিন এই দুর্নীতি চালানো হয়েছে। একজন সচ্ছল পুরুষের নামে কীভাবে সরকারি পোর্টাল ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া এড়িয়ে বিধবা ভাতা বরাদ্দ হতে পারে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই ঘটনার ফলে প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য উপভোক্তাদের বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। গ্রামীণ স্তরে সরকারি প্রকল্প বণ্টনের ক্ষেত্রে স্ক্রুটিনি বা নথিপত্র যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার দুর্বলতা এই ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
