চণ্ডীতলায় আক্রান্ত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিবাদ মিছিলে হামলার অভিযোগে উত্তপ্ত এলাকা – এবেলা

চণ্ডীতলায় আক্রান্ত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিবাদ মিছিলে হামলার অভিযোগে উত্তপ্ত এলাকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল হুগলির চণ্ডীতলায়। হামলার জেরে মাঝরাস্তাতেই মাটিতে শুয়ে পড়েন বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক নেতা। তাঁর দাবি, তাঁকে লক্ষ্য করে ভারী কোনো বস্তু বা বল জাতীয় জিনিস ছোড়া হয়েছে, যার ফলে তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে চরম উত্তেজনা

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অনুগামীদের নিয়ে চণ্ডীতলা থানায় একটি স্মারকলিপি জমা দিতে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মিছিলটি যখন থানার অভিমুখে এগোচ্ছিল, তখন হঠাৎই রাস্তার মোড়ে কিছু মানুষ সাংসদকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শ্রীরামপুরের সাংসদ। মাথায় ভেজা রুমাল চেপে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তাঁর ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার পেছনে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে এভাবে আক্রান্ত হতে হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গেও তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন সাংসদ। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি নিরাপত্তার অভাবের কথা উল্লেখ করেন। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের শীর্ষনেতাদের ওপর পরপর এই ধরনের হামলার ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। এই ঘটনার জেরে চণ্ডীতলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *