পারিবারিক হিংসার চরম নৃশংসতা, স্ত্রীকে চার ঘণ্টা অমানবিক নির্যাতনের পর কুপিয়ে খুন করল স্বামী আরবাজ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুম্বইয়ের এক নৃশংস পারিবারিক হিংসার ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। সামান্য পারিবারিক বিবাদের জেরে এক তরুণীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের পর কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ২৫ বছর বয়সী যুবক আরবাজকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে এর আগেও ১৯টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
ক্রমাগত নির্যাতন ও নৃশংসতার চরম সীমা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ওই তরুণীর সঙ্গে আরবাজের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বিভিন্ন কারণে অশান্তি লেগেই থাকত। দিন দিন সেই বিবাদের মাত্রা আরও চরম রূপ নেয়। নিত্যদিনই স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত আরবাজ। সম্প্রতি পরিস্থিতি এতটাই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে যে, আরবাজ তার স্ত্রীকে ঘরে বন্দি করে রাখে। সেখান থেকে কোনোভাবে পালিয়ে ওই তরুণী নিজের বাপের বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। আরবাজ তার শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হয়ে খুনের এবং অ্যাসিড হামলার হুমকি দেয়। এরপরই সে তরুণীকে টানা চার ঘণ্টা ‘মুরগি’ করে রেখে চরম অমানবিক শাস্তি দেয়। একপর্যায়ে ওই তরুণী সেখান থেকে প্রাণভয়ে পালাতে গেলে আরবাজ তাঁকে ধারালো ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করে।
ঘটনার কারণ ও গভীর সামাজিক প্রভাব
প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে চরম পারিবারিক কলহ, অপরাধপ্রবণ মানসিকতা এবং তীব্র পুরুষতান্ত্রিক অহমিকা। অভিযুক্ত আরবাজের পূর্বের অপরাধমূলক রেকর্ড প্রমাণ করে যে সে সমাজে এক অভ্যস্ত অপরাধী ছিল, যার ফলে তার মধ্যে আইন বা মানবিকতার কোনো ভয় কাজ করেনি। বাপের বাড়িতে গিয়েও স্ত্রীর ওপর এই ধরনের বর্বর নির্যাতন ও প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করার ঘটনাটি সমাজের সামগ্রিক নারী নিরাপত্তা এবং পারিবারিক হিংসা প্রতিরোধের দুর্বলতাকে আবারও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। এই ঘটনা সমাজে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো করে তুলেছে।
