ইউ-টার্ন CBSE-র, অনলাইন মার্কিং পোর্টালে নিরাপত্তা ত্রুটির কথা অবশেষে স্বীকার বোর্ডের – এবেলা

ইউ-টার্ন CBSE-র, অনলাইন মার্কিং পোর্টালে নিরাপত্তা ত্রুটির কথা অবশেষে স্বীকার বোর্ডের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা CBSE-এর অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে চলতে থাকা তীব্র বিতর্কের মাঝে অবশেষে নিজেদের অবস্থান বদল করল বোর্ড। এক্স হ্যান্ডেলে একটি সরকারি বিবৃতি জারি করে CBSE স্বীকার করেছে যে, তাদের পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার অনলাইন মার্কিং পোর্টালে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি ছিল এবং বর্তমানে সেগুলির ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পুরো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

নিরাপত্তা জোরদার ও বিশেষজ্ঞদের নজরদারি

বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলির (IIT) সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল ওই পোর্টালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বোর্ডের দাবি, যে নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছিল সেগুলি ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্য কোনও সম্ভাব্য ত্রুটি বা দুর্বলতা রয়ে গেছে কি না, তাও গভীরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সামগ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে OSM পোর্টালকে আরও সুরক্ষিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বোর্ড।

বিতর্কের কারণ ও নেপথ্যের ঘটনা

সম্প্রতি CBSE-র ডিজিটাল পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন ওঠে। নিসর্গ অধিকারী নামের ১৯ বছরের এক এথিক্যাল হ্যাকার অভিযোগ করেন, AWS-এর একটি স্টোরেজ বালতিতে (bucket) সংরক্ষিত শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র অনলাইনে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। এই চাঞ্চল্যকর দাবি প্রকাশ্যে আসতেই বোর্ডের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এরই সঙ্গে দ্বাদশ শ্রেণির ১৭ বছর বয়সি ছাত্র সার্থক সিদ্ধান্ত বোর্ডের টেন্ডার সংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতার মানদণ্ড ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত শিথিল করা হয়েছিল, যার সুবিধা নিয়ে হায়দরাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা ‘Coempt Eduteck’ এই অন-স্ক্রিন মার্কিং প্রকল্পের চুক্তিটি পায়।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বোর্ডের পদক্ষেপ

ডিজিটাল মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এই ধরণের নিরাপত্তা ত্রুটি লাখ লাখ শিক্ষার্থীর তথ্যের গোপনীয়তা এবং পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারত। তবে সময়মতো এই দুর্বলতা চিহ্নিত হওয়ায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সম্ভাব্য নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য সচেতন নাগরিক ও এথিক্যাল হ্যাকারদের ধন্যবাদ জানিয়েছে CBSE। বোর্ড জানিয়েছে, নিরাপত্তা উন্নত করতে ইতিমধ্যেই কয়েকজনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ মানুষ বা বিশেষজ্ঞদের কেউ কোনও নিরাপত্তা সমস্যা চিহ্নিত করলে তা সরাসরি বোর্ডের নির্দিষ্ট ইমেল ঠিকানায় পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *