মমতা ও অভিষেকের ডাকা মেগা বৈঠক বাতিল, উধাও ৬০ তৃণমূল বিধায়ক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা হাইভোল্টেজ বৈঠক পর্যাপ্ত বিধায়কের উপস্থিতির অভাবে বাতিল করতে বাধ্য হলো তৃণমূল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। শাসকদলের প্রায় ৮০ জন হেভিওয়েট বিধায়কের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে হাজির হন মাত্র ২০ জন। খোদ সুপ্রিমোর ডাকা বৈঠক থেকে ৬০ জন জনপ্রতিনিধির এই বিপুল অনুপস্থিতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বৈঠকের মূল এজেন্ডা ও সমন্বয়হীনতার প্রশ্ন
তৃণমূল দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের বুথ স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক রদবদল, বিধায়কদের কাছ থেকে নিজ নিজ এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি জানা এবং রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির রূপায়ণের অগ্রগতি খতিয়ে দেখার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল। আগামী দিনের কঠিন রাজনৈতিক রণকৌশল নির্ধারণের জন্য এই জরুরি বৈঠক ডাকা হলেও শুরুতেই বিধায়কদের এই বিপুল অনুপস্থিতি দলের অন্দরের সমন্বয় নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার এই বিপুল ঘাটতি দেখেই শেষমেশ বৈঠকটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ নেতৃত্ব।
কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
বৈঠক বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আসরে নেমে পড়েছে বিরোধী শিবির। ৬০ জন বিধায়কের গরহাজির থাকার ঘটনাকে তৃণমূলের ভেতরের আদি-নব্য দ্বন্দ্ব বা তীব্র অন্তর্কলহের জ্বলন্ত প্রমাণ হিসেবেই দাবি করছে বিরোধীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলনেত্রী ও যুবরাজের ডাকা বৈঠকে সিংহভাগ বিধায়কের অনুপস্থিত থাকাটা শাসকদলের জন্য মোটেও হালকাভাবে নেওয়ার মতো ঘটনা নয়। এটি দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে এক ধরনের শৈথিল্য প্রকাশ করে, যা আগামী দিনে দলের সংগঠনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সমস্ত জল্পনা বা অসন্তোষের তত্ত্ব এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, এর পেছনে কোনও ক্ষোভ বা রাজনৈতিক মতবিরোধ নেই, সিংহভাগ বিধায়ক আগে থেকেই নিজেদের বিধানসভা কেন্দ্রে জরুরি সরকারি ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন। তড়িঘড়ি পুনরায় সবার সময় ও সূচি মিলিয়ে এই বৈঠক ডাকা হবে এবং সেখানে সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
