কলম ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে বাজিমাৎ করে সিউড়ির বিধায়ক হলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়! – এবেলা

কলম ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে বাজিমাৎ করে সিউড়ির বিধায়ক হলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সাংবাদিকতার চেনা গণ্ডি এবং কলম ছেড়ে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নেমেছিলেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিউড়ি কেন্দ্র থেকে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলেও দমে যাননি। পরাজয়কে শক্তিতে পরিণত করে বিগত পাঁচ বছর ধরে বীরভূমের মাটিতে নিরন্তর জনসংযোগ ও রাজনৈতিক অধ্যবসায়ের যে নজির তিনি গড়েছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তারই সুফল পেলেন। সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের শক্তিশালী প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে এবার বিধানসভায় যাচ্ছেন বিজেপির জগন্নাথ চ্যাটার্জি। রাজনৈতিক মহলের জোর গুঞ্জন, লড়াকু এই জননেতা আজই রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন।

লড়াইয়ের পাঁচ বছর ও জনমুখী উদ্যোগ

পদার্থবিদ্যার ছাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলার সাংবাদিকতা জগতের একটি পরিচিত মুখ ছিলেন। ২০২১ সালে পেশাগত জীবন থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। বিগত পাঁচ বছর কোনো সরকারি পদে না থেকেও সিউড়ির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে রেল মন্ত্রকের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রক্ষা করে থমকে থাকা হাটজনবাজার রেল ওভারব্রিজ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া, সিউড়ি-শিয়ালদহ মেমু এক্সপ্রেস ট্রেনের ব্যবস্থা করা এবং সিউড়ি রেল স্টেশনের আধুনিকীকরণের মতো কাজে তাঁর সরাসরি অবদান সিউড়ির মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই ধারাবাহিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও মানুষের পাশে থাকার মানসিকতাই এবারের নির্বাচনে তাঁর জয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের এই বিপুল জয় বীরভূম জেলায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বীরভূমের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিতে পারে। তবে এই জয়ের পর সিউড়ির মানুষের প্রত্যাশার পারদও এখন তুঙ্গে। এতদিন ধরে বিরোধী শিবিরে থেকে তিনি এলাকার উন্নয়নের যে রূপরেখা দেখিয়েছেন, এখন শাসক দলের অংশ বা বিধায়ক হিসেবে সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন করাই হবে তাঁর আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাংবাদিক থেকে জননেতা হয়ে ওঠার এই অনন্য লড়াইয়ের পর, প্রশাসনের অন্দরমহলে থেকে তিনি সিউড়ির দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো কতটা মেটাতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *