সোনারপুরে হামলার ধাক্কায় অসুস্থ অভিষেক, খোঁজ নিতে পায়ে হেঁটে বাড়িতে মমতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোনারপুরে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে ডিম ও ইট হামলার শিকার হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে নিজের বাড়িতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন এই সাংসদ। রবিবার বিকেলে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সামান্য দূরত্ব পায়ে হেঁটে ভাইপো অভিষেকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে তাঁর বাসভবনে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে শনিবার রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পরও দীর্ঘক্ষণ অভিষেকের পাশে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
চিকিৎসকদের নজরদারিতে সাংসদ
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা চলছে এবং তাঁর দায়িত্বে রয়েছেন দু’জন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। হামলার ধাক্কায় রবিবার সকাল থেকেও তাঁর তীব্র বমি বমি ভাব ছিল। বর্তমানে তাঁকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে এবং শারীরিক যন্ত্রণা উপশমের জন্য চলছে কড়া ওষুধ। চিকিৎসকরা তাঁকে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী বা ‘বেড রেস্টে’ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শনিবার ঘটনার পর কলকাতার দুটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চোট জীবনঘাতী বা অত্যন্ত গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা তাঁকে ছেড়ে দেন।
হামলার সূত্রপাত ও রাজনৈতিক উত্তাপ
ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শনিবার সোনারপুর যাচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ই আচমকা তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে ডিম ও ইটের টুকরো ছোঁড়া হয়, ওঠে ‘চোর’ স্লোগান। চরম হেনস্তার মুখে পড়ে সাংসদের জামা ছিঁড়ে যায় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনার জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে জেলা স্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে তৃণমূল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত সন্দেহে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তীব্র ক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল শিবিরের অন্দরে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার ওপর এমন আকস্মিক আক্রমণ আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে বড়সড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের পক্ষ থেকে ব্লক স্তরে বড় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
