বিধানসভায় সই-জাল কাণ্ড: তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন, বিপাকে অভিষেক-ফিরহাদ! – এবেলা

বিধানসভায় সই-জাল কাণ্ড: তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন, বিপাকে অভিষেক-ফিরহাদ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভায় সই জাল কাণ্ড! শাসকদলের অন্দরেই বড় ফাটল

বিধানসভায় সই জাল করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কারের পর নাটকের সূত্রপাত হলেও, বর্তমানে এই বিতর্ক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরমহল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অভিযোগের তির এখন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দিকে।

তদন্তের মুখে শীর্ষ নেতৃত্ব

রাজ্য সরকারের নির্দেশে বিধানসভার সই জাল কাণ্ডের তদন্তভার সিআইডির হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে সিআইডির প্রতিনিধিদল মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও সিআইডি হানা দেয় এবং তাঁকে ভবানী ভবনে তলব করা হয়। গ্রেফতারির আশঙ্কায় অভিষেক ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করেছেন, যার শুনানি আজ শুক্রবার হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, সন্দেহভাজন বিধায়কদের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিতর্কের মূলে রয়েছে গত ৯ মে বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া একটি চিঠি, যেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাব ছিল। অভিযোগ, এই চিঠিতে ১৪ জন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে এবং ব্লক লেটারে সই বসানো হয়েছে। বিধায়ক ঋতব্রত ও সন্দীপন স্বয়ং স্পিকারের কাছে এই জালিয়াতির অভিযোগ জানানোর পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। দলের ৫৮ জন বিধায়ক বিদ্রোহী নেতাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নতুন দল গঠনের জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই অস্থিরতা কেবল প্রশাসনিক স্তরেই নয়, বরং আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *