সাত বছর পর কিমের দেশে জিনপিং, আমেরিকার রক্তচাপ বাড়িয়ে নতুন সমীকরণের আভাস – এবেলা

সাত বছর পর কিমের দেশে জিনপিং, আমেরিকার রক্তচাপ বাড়িয়ে নতুন সমীকরণের আভাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘ সাত বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আগামী ৮ জুন দুই দিনের সফরে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি যখন ইরান ও ইউক্রেন সংকটের কারণে চরম উত্তপ্ত, ঠিক তখনই সত্তরোর্ধ্ব চিনা প্রেসিডেন্টের এই পিয়ংইয়ং সফর বিশ্বমঞ্চে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন তথা আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা অক্ষের বিরুদ্ধে বেজিং ও পিয়ংইয়ং নতুন কোনো সামরিক বা কূটনৈতিক কৌশল সাজাচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

রাশিয়াকে বার্তা ও ৬৫ বছরের পুরোনো চুক্তি

সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত ও সামরিক ঘনিষ্ঠতা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে, যার বড় প্রমাণ ইউক্রেন যুদ্ধে কিম জং উনের সেনা পাঠানো। বিশ্লেষকদের মতে, জিনপিংয়ের এই সফরের অন্যতম প্রধান কারণ পিয়ংইয়ংয়ের ওপর চিনের ঐতিহ্যগত প্রভাব ধরে রাখা। বেজিং এর মাধ্যমে মস্কোকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে, উত্তর কোরিয়ার প্রধান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভিভাবক এখনও চিনই। ১৯৬৫ সালে স্বাক্ষরিত দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো এক পক্ষ আক্রান্ত হলে অন্য পক্ষ সামরিক সহায়তা দিতে আইনত বাধ্য। এই সফর সেই পুরোনো ও অটুট সামরিক অংশীদারিত্বকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি বড় প্রয়াস।

বৈশ্বিক প্রভাব ও ওয়াশিংটনের অস্বস্তি

জিনপিংয়ের এই সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ—উভয় ক্ষেত্রেই আমেরিকার সক্রিয় ভূমিকা ও স্বার্থ জড়িত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চিন ও উত্তর কোরিয়ার নতুন করে জোটবদ্ধ হওয়ার বার্তা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। দীর্ঘদিন পর চিনা প্রেসিডেন্টের এই বিদেশ সফর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ সামগ্রিক বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার একাধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী পাল্টা প্রতিরোধ বলয় গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *