কোটি কোটি টাকার তোলাবাজির অভিযোগ, বেলদার ওড়িশা সীমান্ত থেকে গ্রেফতার সুশান্ত ঘোষের গাড়ির চালক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জোড়া এফআইআর-এর চাপে শেষ পর্যন্ত কি এলাকা ছাড়লেন ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১২ নম্বর বোরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ? হকারদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তাঁর ফোন সুইচড অফ, এলাকায় দেখা মিলছে না তাঁর। পরিবার নিয়ে তিনি পলাতক বলে জল্পনা ছড়ানোর মাঝেই বেলদার ওড়িশা সীমান্ত থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে সুশান্ত ঘোষের গাড়ির চালককে। কাউন্সিলরের এই রহস্যজনক অন্তর্ধান এবং চালকের গ্রেফতারি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
ব্যবসায়ীদের থেকে ৩ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ
পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানায় সুশান্ত ঘোষ ও তাঁর সাত সহযোগীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন একটি বাজারের হকার্স কমিটির অন্তত ১৩০ জন সদস্য। তাঁদের দাবি, বাজারে দোকান বরাদ্দ ও নির্মাণের নামে গত কয়েক বছরে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা বেআইনিভাবে আদায় করা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাজারে নতুন করে টিন ও শাটার লাগানো দোকান তৈরির সময় ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগ, দোকানের আকার অনুযায়ী আলাদা আলাদা ‘রেট’ ঠিক করে কোটি কোটি টাকা তোলা নেওয়া হয়েছিল। এমনকি নতুন তৈরি হওয়া বেশ কিছু দোকান প্রতিটি প্রায় ৬ লক্ষ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে বলেও হকাররা সরব হয়েছেন।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে হকারদের এই গণ-অভিযোগের পরই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। তদন্তের চাপ বাড়তেই কাউন্সিলরের বেপাত্তা হওয়া এবং ওড়িশা সীমান্ত থেকে তাঁর চালকের ধরা পড়া ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে পুরসভার অন্দরে হকার পুনর্বাসন ও দোকান বণ্টনে দুর্নীতির বড়সড় চক্র সামনে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে, যার প্রভাব আগামী দিনে কলকাতার পুর-রাজনীতিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
