স্বস্তিতে মধ্যবিত্ত, ইএমআই বাড়ছে না, রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল আরবিআই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টানা দুই দিনের ম্যারাথন বৈঠকের পর অবশেষে দেশের মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবী সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর শোনাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। বর্তমান অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার আরবিআই গভর্নর সঞ্চয় মালহোত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। ফলে বর্তমান রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই স্থির থাকছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তের জেরে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকেও ঋণের সুদের হার বাড়াতে হবে না, যার সরাসরি সুবিধা পাবেন গৃহ, গাড়ি বা ব্যক্তিগত ঋণগ্রহীতারা।
রেপো রেট ও সাধারণ মানুষের পকেটের টান
মূলত যে সুদের হারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দেয়, তাকেই আর্থিক পরিভাষায় রেপো রেট বলা হয়। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বা বাজারে অর্থের জোগান কমাতে আরবিআই এই সুদের হার বৃদ্ধি করে থাকে। রেপো রেট বাড়লে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিরও তহবিল সংগ্রহের খরচ বৃদ্ধি পায়, যার জেরে তারা সাধারণ গ্রাহকদের গৃহঋণ, গাড়ি ঋণ বা অন্যান্য টার্ম লোনের ওপর সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে প্রতি মাসে গ্রাহকদের কাঁধে ইএমআই-এর অতিরিক্ত বোঝা চাপে। এবারের মুদ্রানীতি নির্ধারণী বৈঠকের আগে বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে রেপো রেট বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে আরবিআই সুদের হার স্থিতিশীল রাখায় ঋণের কিস্তি বা ইএমআই আপাতত বাড়ছে না, যা মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে বড় স্বস্তি দেবে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাংবাদিক বৈঠকে আরবিআই গভর্নর সঞ্চয় মালহোত্রা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জানান, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই টালমাটাল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি অত্যন্ত মজবুত অবস্থানে রয়েছে এবং দেশ যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে চলতি বছরে দুর্বল বর্ষার পূর্বাভাস থাকায় কৃষি উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। বর্ষা ঘাটতির কারণে আগামী দিনে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা থাকলেও দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর জোগান মজুত থাকায় বড় কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস ও জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.৬ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির হার ৩.৭ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল, যা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সন্তোষজনক সীমার মধ্যেই রয়েছে। তবে আগামী দিনগুলিতে উপভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই ইনফ্লেশন ৫.১ শতাংশের আশেপাশে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্বস্তির বিষয় হলো, দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সাথে দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার বা ফরেক্স রিজার্ভও যথেষ্ট শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে, যা ভারতীয় অর্থনীতিকে বাহ্যিক ধাক্কা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
