নেহেরুর রেকর্ড ভাঙার মুখে মোদী, বদলে যাওয়া ভারতের নতুন চালচিত্র – এবেলা

নেহেরুর রেকর্ড ভাঙার মুখে মোদী, বদলে যাওয়া ভারতের নতুন চালচিত্র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আগামী ১০ জুন এক অভূতপূর্ব ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে ভারত। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর একটানা দীর্ঘতম মেয়াদে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড ভাঙতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী। ১৯৫২ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত মোট ৪,৩৯৮ দিন প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন নেহেরু, আর আগামী ১০ জুন প্রধানমন্ত্রী মোদীর কার্যকাল ৪,৩৯৯ দিনে পদার্পণ করবে। তবে এই দীর্ঘ সময়ে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক আদর্শের চেয়েও বড় পরিবর্তন এসেছে ভারতের সামগ্রিক রূপরেখা ও জনমানসে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় ৩৪ কোটি মানুষের দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটে জর্জরিত তরুণ রাষ্ট্রটি আজ ১৪০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এক বৈশ্বিক মহাদেশীয় শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

গণতন্ত্রের বিস্তার ও রাজনীতির জটিল সমীকরণ

নেহেরুর আমলে ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন মাত্র ১৭ কোটি, যা আজ ৯৫ কোটি ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। প্রথম নির্বাচনে যেখানে মাত্র ৫০টি দল অংশ নিয়েছিল এবং কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, আজ সেখানে শত শত রাজনৈতিক দল ও শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোর উত্থান ঘটেছে। বর্তমানের নির্বাচন ব্যবস্থা আর কেবল সনাতন প্রচারে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ইভিএম, ডিজিটাল প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়া এবং রিয়েল-টাইম ডেটা অ্যানালিসিসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফলে এই বিপুল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও জোট রাজনীতির জটিল সমীকরণ সামলানো সমসাময়িক শাসনব্যবস্থার জন্য এক মস্ত বড় পরীক্ষা।

অর্থনৈতিক রূপান্তর ও বিশ্বমঞ্চে কৌশলগত অবস্থান

নেহেরুর যুগে ভারতের মূল লক্ষ্য ছিল প্রাথমিক শিল্পায়ন, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং স্বনির্ভরতা অর্জন। সেই প্রাথমিক পর্যায় পেরিয়ে আজ ভারত বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি। ফলে অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারের ওঠানামা, জ্বালানি সংকট ও প্রযুক্তির প্রতিযোগিতাকে প্রতিনিয়ত সামাল দিতে হচ্ছে বর্তমান নেতৃত্বকে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারতের ভূমিকা বদলেছে আমূল। স্বাধীনতার পর ভারতের কণ্ঠস্বর যেখানে প্রধানত ঔপনিবেশিকতাবিরোধী নৈতিক দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, আজ ভারত জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার মতো আন্তর্জাতিক বিষয়ে অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শক্তি।

যোগাযোগ বিপ্লব ও নাগরিকদের আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা

যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় বিপ্লব আধুনিক ভারতের শাসনব্যবস্থাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে। নেহেরুর সময়ে সংবাদপত্র বা রেডিয়োর মাধ্যমে খবর পৌঁছাতে যেখানে দিন বা সপ্তাহ কেটে যেত, আজ সোশ্যাল মিডিয়া ও টেলিভিশনের কল্যাণে প্রতিটি নীতি বা বক্তব্য মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমত তৈরি হয় তাৎক্ষণিকভাবে। ১৯৫০-এর দশকে ভারতীয়দের লড়াই যেখানে ছিল স্রেফ টিকে থাকা এবং মৌলিক চাহিদা পূরণ, একবিংশ শতকের ১৪০ কোটির ভারত আজ অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী। সমসাময়িক নাগরিকরা এখন স্থায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বমানের পরিকাঠামো, ডিজিটাল পরিষেবা, উচ্চ আয় এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতের শক্তিশালী উপস্থিতি দাবি করেন। এই আকাশচুম্বী জনআকাঙ্ক্ষাই মূলত আধুনিক ভারতের চালিকাশক্তি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *