নিজের দলেই কোণঠাসা অভিষেক! ‘ওঁর সঙ্গে তো দলই নেই’, তীব্র কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

নিজস্ব প্রতিবেদন: দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের হাই-প্রোফাইল বৈঠকের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, “ওঁর সঙ্গে তো নিজের দলই নেই, ওঁর সঙ্গে আবার থাকবে কে?” ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে যে গৃহযুদ্ধ ও ভাঙনের জল্পনা চলছে, দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ:
রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূলের একাংশ সাংসদ ও বিধায়কদের মধ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে। দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়কদের একটি অংশ ইতিমধ্যেই প্রকাশ্য বিদ্রোহের পথে হেঁটেছেন। রাজনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, বিধানসভার প্রায় ৫৮ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানিয়েছেন। যদিও এই সংখ্যার আইনি বৈধতা নিয়ে এখনও বিধানসভায় টানাপোড়েন অব্যাহত।
কালীঘাটে রদবদল ও অভিষেকের ভূমিকা:
দলের এই অভূতপূর্ব সংকট মোকাবিলায় কালীঘাট সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করেছে। ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে যৌথভাবে সর্বভারতীয় সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে দলে অভিষেকের ডানা ছাঁটার জল্পনা উড়িয়ে তাঁকে সাংগঠনিক কাজে আরও বেশি সক্রিয় করা হয়েছে, যাতে দিল্লিতে দলের সাংসদদের মধ্যে সম্ভাব্য ফাটল রোধ করা এবং অনুগামীদের এককাট্টা রাখা সম্ভব হয়।
জোটের ওপর বড় প্রভাব:
আগামী ৮ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা বৈঠক। কিন্তু বৈঠকের আগেই বিরোধী শিবিরে বড় ধাক্কা লেগেছে। জোটের অন্যতম প্রধান শরিক ডিএমকে এই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসকে দেওয়া সমর্থনের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলেছে স্ট্যালিনের দল। একদিকে বঙ্গে দলের ঐতিহাসিক ভাঙন, অন্যদিকে জাতীয় স্তরে জোটের অন্দরে ফাটল—সব মিলিয়ে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লি সফর এখন চূড়ান্ত আলোচনার কেন্দ্রে।
