দল ও সাংসদ পদ ছাড়লেন সুখেন্দুশেখর, মমতার বিরুদ্ধে চরম দুর্নীতির অভিযোগ! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ রাজনীতিক সুখেন্দুশেখর রায়। সোমবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনের কাছে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের ঠিক পরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্নীতির মূলে সরাসরি আঘাত
দল ছাড়ার পর শাসকদলের বিরুদ্ধে কার্যত জেহাদ ঘোষণা করেছেন এই প্রবীণ আইনজীবী। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূলে দুর্নীতির বীজ বপন করা হয়েছিল। ডেলো পাহাড়ে চিটফান্ড কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক এবং লক্ষাধিক টাকায় তৃণমূলনেত্রীর ছবি বিক্রির প্রসঙ্গ টেনে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাসরি নিশানা করেন। সুখেন্দুশেখরের দাবি, দলে সৎ নেতারা ক্রমাগত কোণঠাসা হচ্ছেন এবং দুর্নীতিই এখন দলের অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, সিপিএম-কে ক্ষমতাচ্যুত করা ছাড়া তৃণমূলের নিজস্ব কোনও আদর্শ ছিল না। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পরেও দলে সঠিক পর্যালোচনা না হওয়ায় সাধারণ মানুষ যে সরকারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, সে কথাও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
বিদ্রোহীদের একজোট হওয়ার ইঙ্গিত ও প্রভাব
দিল্লিতে যখন সুখেন্দুশেখর রায় সরব, তখন কলকাতাতে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন দলের আরেক বিক্ষুব্ধ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কার্যপ্রণালীকে তীব্র কটাক্ষ করে ঋতব্রত জানান, সুখেন্দুশেখরের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিককে রাজ্যসভায় গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছিল। প্রবীণ নেতাদের সম্পদের হিসাব চেয়ে তদন্তের যে দাবি সুখেন্দুশেখর তুলেছেন, তাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।
এই অভাবনীয় দলত্যাগের ঘটনা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের চরম কোন্দল এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এল। এর ফলে শাসকদলের ভাবমূর্তি যেমন বড়সড় ধাক্কা খেল, তেমনই দলের অন্দরে আরও বড় ভাঙনের সম্ভাবনা প্রবল হল। ৫৯ বছরের রাজনৈতিক জীবন শেষে অন্য কোনও দলে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে সুখেন্দুশেখর রায় এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও, তাঁর এই পদক্ষেপ রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ ও শাসকদলের স্থিতিশীলতায় গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে।
