লোকসভাতেও বড় ভাঙন, তৃণমূলের ২০ সাংসদের বিদ্রোহের নেপথ্যে কে? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য বিধানসভার পর এবার দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা তথা লোকসভাতেও বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে ‘আসল তৃণমূল’ গঠনের পর, এবার লোকসভার সংসদীয় দলেও আড়াআড়ি বিভাজন স্পষ্ট হলো। সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনের সই করা একটি চিঠি জমা দিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা। বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বেই এই চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর থেকেই জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে লোকসভায় ‘অপারেশন লোটাসের’ নেপথ্য কারিগর কে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
দিল্লিতে চা চক্র ও শুভেন্দু অধিকারীর সক্রিয়তা
এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নেপথ্য কারণ হিসেবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম উঠে আসছে। সোমবার বিকেলে দিল্লির একটি বাড়িতে সাংসদ শতাব্দী রায়ের আয়োজিত এক সান্ধ্য চা চক্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং হাজির হন। সেখানে একে একে উপস্থিত হন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশ বাসুনিয়া, কালীপদ সোরেন এবং অরূপ চক্রবর্তীর মতো শীর্ষস্থানীয় ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। এর আগে সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে শতাব্দী রায়, আবু তাহের ও খলিলুর রহমানদের ক্ষোভ ও সমস্যার কথা শোনার পর, বিকেলে শুভেন্দু অধিকারীর এই বৈঠক পরিস্থিতিকে চূড়ান্ত রূপ দেয়। একটি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজেই স্বীকার করেছেন যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, যা এই জল্পনাকে আরও দৃঢ় করেছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও দলীয় প্রতীকের সংকট
মহারাষ্ট্রে যেভাবে শিবসেনা বা এনসিপি ভেঙে মূল নেতৃত্ব দল ও প্রতীক হারিয়েছিল, তৃণমূলের ক্ষেত্রেও তেমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এবং এনডিএ জোটে শামিল হওয়া কিংবা আসন্ন বাদল অধিবেশনে বিজেপির আনা বিলগুলোকে সমর্থনের প্রশ্নে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। অন্যায়, অত্যাচার ও অনুন্নয়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের খাতিরেই এই দলত্যাগের সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এই ভাঙনের ফলে আগামী দিনে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, তেমনই জাতীয় স্তরে দলের রাজনৈতিক দর কষাকষির ক্ষমতাও বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
