দিদির সঙ্গেই আছি! নতুন তৃণমূলে যোগ নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটালেন দেব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজনীতির উত্তাল সমীকরণে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের একটা বড় অংশ বিদ্রোহী হয়ে এনডিএ-র দিকে পা বাড়াচ্ছে, তখন ঘাটালের সাংসদ দেবের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক জল্পনা। সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে দেবের উপস্থিতি সেই জল্পনাকে তুঙ্গে তুলেছিল। তবে সব ধোঁয়াশা দূর করে দেব স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি ‘নতুন তৃণমূলে’ যোগ দিচ্ছেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য অটুট রেখে উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি বর্তমান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে চান।
মমতার প্রতি আনুগত্য ও ভবিষ্যতের ধোঁয়াশা
তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় নিজের নাম থাকলেও, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে দেবের বার্তা ছিল অত্যন্ত কৌশলী ও আবেগপূর্ণ। তিনি সাফ জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও আনুগত্য সারাজীবন থাকবে। যতদিন নেত্রী বেঁচে আছেন, তিনি তাঁর পাশেই থাকবেন। তবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হোক বা নবান্ন বা কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক—সবক্ষেত্রেই তিনি ঘাটালের সাংসদ হিসেবে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের দাবি নিয়ে হাজির হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দেব।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ও উন্নয়নের নতুন সমীকরণ
এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে দেবের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যে প্রকল্পের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই এবার বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদী। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও শুভেন্দু অধিকারী যে রাজ্যের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী, সেই বাস্তবতা স্বীকার করেছেন দেব। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়েছেন, কৃতিত্বের লড়াই নয়, বরং উন্নয়নই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দ্রুত কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী শিবিরের এনডিএ-তে যোগদানের গুজবের মধ্যে দেবের এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে নেত্রীর প্রতি আবেগ এবং অন্যদিকে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে উন্নয়নমূলক সমন্বয়ের এই দ্বিমুখী পথ দেবকে অনেকটা স্বস্তিতে রেখেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে এই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
