তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অন্ধকারে, জোড়াফুল শিবিরে নজিরবিহীন ভাঙনে তীব্র কটাক্ষ মন্ত্রী নিশীথের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ওলটপালট শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ব্যাপক ভাঙন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার সরাসরি তোপ দেগেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিক। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত। রাজ্যে শাসক শিবিরের এই নড়বড়ে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঘাসফুল শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী দল বিজেপি।
বিধায়ক ও সাংসদদের বিদ্রোহে কোণঠাসা নেতৃত্ব
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন, যা দলটির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। এই বিদ্রোহী বিধায়করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেতা হিসেবে ঘোষণা করায় বিরোধী দলনেতার চেয়ার এখন তাঁর দখলে। শুধু রাজ্য রাজনীতিতেই নয়, দিল্লিতে লোকসভাতেও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই ইতিমধ্যে একটি নতুন ব্লক তৈরি করেছেন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এই অংশটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এখন থেকে তারা যে কোনো বিষয়ে এনডিএ জোটকে সমর্থন জানাবে। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজ্যসভাতেও, যেখানে সুখেন্দুশেখর রায়ের পর একের পর এক সাংসদ পদত্যাগ করছেন এবং তাঁদের ক্ষোভের মূল নিশানা হয়ে উঠেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অস্তিত্ব রক্ষায় কংগ্রেসের শরণাপন্ন মমতা
দলের এমন চরম বিপর্যয় ও ভাঙন রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন মরিয়া হয়ে কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠতা পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তাগিদে তিনি ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন এবং সনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সেরেছেন। এই রাজনৈতিক পদক্ষেপকে তীব্র সমালোচনা করে নিশীথ প্রামাণিক মন্তব্য করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষসহ দলের নিজস্ব সাংসদ ও বিধায়করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মূল টিমের সদস্যরাও দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ফলে মমতা দিদি এখন কোনোভাবে কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
আদর্শগত মিল এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব
কংগ্রেস ও তৃণমূলের এই আপাত ঘনিষ্ঠতাকে কটাক্ষ করে মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক আরও বলেন, এই দুই দলের উৎস এবং রাজনৈতিক আদর্শ মূলত একই, কারণ দুই দলই তোষণ ও স্বজনপোষণের রাজনীতি বিশ্বাসী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দলের ভেতরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে ওঠা প্রশ্নই দলটিকে খণ্ডবিখণ্ড হওয়ার দিকে ঠেলে দিয়েছে। একের পর এক সাংসদ ও বিধায়কের দলত্যাগ এবং বিরোধী শিবিরের এই ধারাবাহিক আক্রমণ আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতা ও রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
