ইতিহাস গড়ল নীতি আয়োগের বৈঠক! দীর্ঘদিনের বয়কট ভেঙে মোদীর দরবারে দেশের সব মুখ্যমন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক বয়কটের ছবিটা একঝটকায় বদলে গেল। সাম্প্রতিক অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত নীতি আয়োগের একাদশ গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে হাজির হলেন দেশের সবকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের ২৮ জন মুখ্যমন্ত্রীর এই অভূতপূর্ব উপস্থিতি জাতীয় রাজনীতিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
বিগত কয়েক বছর ধরেই নীতি আয়োগের বৈঠক বয়কট করা বিরোধী দলগুলির একটি চেনা রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। ২০২৩ সালে ৯ জন এবং ২০২৪ সালেও ১০ জন মুখ্যমন্ত্রী এই বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালের এই বৈঠক সেই দীর্ঘদিনের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিল।
রাষ্ট্রপতি ভবনের কালচারাল সেন্টারে আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় থেকে শুরু করে কর্ণাটকের ডিকে শিবকুমার—সবাই এদিন বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া কেরল, তেলেঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীরাও এই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। বিজেপি প্রধান রাজ্যগুলির পক্ষে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ ও মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের লেফটেন্যান্ট গভর্নররাও উপস্থিত ছিলেন।
‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে মোদীর বার্তা:
জাতীয় উন্নয়নের নীতি নির্ধারণের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমবায় বা ‘কো-অপারেটিভ ফেডারেলিজম’-এর ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে। এই যৌথ উদ্যোগই ভারতকে ‘বিকশিত ভারত’ হিসেবে গড়ে তুলবে।
বিশ্বের বর্তমান অস্থির ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সারা বিশ্বে নানা সংকট থাকলেও ভারত অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলি আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য এক বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে।”
পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য সঠিক কর্মসংস্থান ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং কৃষি থেকে স্টার্টআপ—সব ক্ষেত্রে ‘নারী শক্তি’র অবদানের কথা তুলে ধরেন মোদী। তিনি রাজ্যগুলিকে নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে আলাদাভাবে একান্ত আলোচনা করতেও দেখা যায়।
