‘কেনা আছে পচা ডিমের পেটি!’ জোড়া পুরসভায় দুর্নীতির অভিযোগে ধুন্ধুমার, পড়ল পোস্টার – এবেলা

‘কেনা আছে পচা ডিমের পেটি!’ জোড়া পুরসভায় দুর্নীতির অভিযোগে ধুন্ধুমার, পড়ল পোস্টার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

চন্দ্রকোণা: তৃণমূল পরিচালিত দুই পুরসভায় কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ! আর সেই ক্ষোভ উগরে দিতেই বৃহস্পতিবার সকালে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের রামজীবনপুর ও ক্ষীরপাই পুর-এলাকা। কোথাও খোদ বিজেপির তরফে, আবার কোথাও ‘সচেতন নাগরিকবৃন্দ’-এর নামে সাঁটানো এই পোস্টার ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য জুড়ে তৈরি হওয়া নতুন সরকারের কাছে এই সমস্ত দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

‘বেটা হোক বা বেটি, কেনা আছে পচা ডিমের পেটি’

সবচেয়ে বেশি শোরগোল পড়েছে রামজীবনপুর পুরসভার চেয়ারম্যান কল্যাণ তিওয়ারির বিরুদ্ধে পড়া পোস্টার ঘিরে। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় ছড়া কেটে ‘ডিম-হুমকি’ দিয়ে লেখা হয়েছে— ‘দুর্নীতি করলে শাস্তি পাবে বেটা হোক বা বেটি, দোকান থেকে কেনা আছে পচা ডিমের পেটি।’

বিজেপির অভিযোগ, রামজীবনপুরের চেয়ারম্যান কল্যাণবাবু কেন্দ্রের ‘অমৃত প্রকল্প’-এর সরকারি টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর স্ত্রীর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাইয়ে দিয়েছেন। এমনকি প্রকল্পের আওতায় যে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল, সেগুলো পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক তদন্ত দাবি করেছেন। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে চেয়ারম্যান কল্যাণ তিওয়ারির পাল্টা প্রশ্ন, “ওটা আমার স্ত্রীর নয়, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অ্যাকাউন্ট। নিয়ম মেনেই টাকা এসেছে। আমার স্ত্রী বলে কি তিনি স্বনির্ভর গোষ্ঠী করতে পারবেন না?”

দল বদলালেও রেহাই নেই! ক্ষীরপাইতেও চরম হুঁশিয়ারি

অন্যদিকে, ক্ষীরপাই পুরসভার হালদারদিঘি, চৌকান, হাটতলা সহ একাধিক এলাকায় ‘সচেতন নাগরিকবৃন্দ’-এর নামে পোস্টার পড়েছে। সেখানে পুকুর ভরাট, বেআইনি নির্মাণ এবং রাস্তা তৈরিতে কাটমানি খাওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়েছে। পোস্টারে সাফ জানানো হয়েছে— রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতেই দল পরিবর্তন করে কেউ যেন পুরোনো কেলেঙ্কারির দায় এড়াতে না পারেন, তা নতুন সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

এই পোস্টার বিতর্ককে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে পদ্ম শিবির। চন্দ্রকোণার বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত দোলই কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, “যেখানে যা দুর্নীতি হয়েছে, তার সবটার তদন্ত হবে। আমাদের সরকার দুর্নীতির সঙ্গে কোনও আপস করে না।” অন্যদিকে, ক্ষীরপাইয়ের পুরপ্রধান বিকাশ দাস জানিয়েছেন, তাঁরা গোটা বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছেন। ভোট মেটার পর দুই পুরসভার এই ‘পোস্টার যুদ্ধ’ এখন জেলার রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *