মমতার সঙ্গ ছাড়লেন দেব-সায়নী-ইউসুফরা! প্রকাশ্যে ১৯ বিদ্রোহী সাংসদের সই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে পালাবদলের পরেই তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও দলের রাশ পুরোপুরি হারালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া ১৯ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের সই করা একটি চিঠি শুক্রবার প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ শিবিরে যোগদানের কথা জানিয়েছেন। এই তালিকায় বর্ষীয়ান রাজনীতিকদের পাশাপাশি রয়েছেন দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়ের মতো তারকা সাংসদরা। এমনকি তৃণমূলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ এবং ইউসুফ পাঠানের নামও রয়েছে এই দলত্যাগীদের তালিকায়।
বিদ্রোহের নেপথ্য কারণ ও দলের উপর প্রভাব
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের ধাক্কায় তৃণমূলে এই চরম বিশৃঙ্খলা ও ভাঙন তৈরি হয়েছে। এর আগে ঋতব্রত-পন্থীদের বিদ্রোহে রাজ্য বিধানসভায় পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার দিল্লিতে সংসদীয় দলও হাতছাড়া হওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে কার্যত অস্তিত্ব সংকটে পড়ল দলটি। এই ব্যাপক দলবদলের ফলে সংসদের ভিতরে ও বাইরে তৃণমূলের রাজনৈতিক শক্তি এবং একতা বড়সড় প্রশ্নের মুখে গিয়ে দাঁড়াল।
দিল্লিতে চূড়ান্ত হবে আগামীর রণকৌশল
সূত্রের খবর, গত ৯ জুন নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে আয়োজিত এক বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, পার্থ ভৌমিক, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া-সহ ১৪ জন সাংসদ প্রথমে সই করেন। পরবর্তীতে মালা রায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করে বিদ্রোহে শামিল হন। আগামী সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে এই সাংসদদের দেখা করার কথা রয়েছে। সেখানে তাঁরা এনডিএকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি লোকসভায় বসার জায়গা আলাদা করার লিখিত দাবি জানাবেন। রবিবার রাতেই দিল্লি পৌঁছে এক বিশেষ নৈশভোজের মাধ্যমে নিজেদের পরবর্তী চূড়ান্ত রাজনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন এই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা।
