চাকরি চুরির টাকায় গড়েছেন রাজপ্রাসাদ! তৃণমূল নেতার বাড়ি ভাঙচুর করে ‘জনতার আদালত’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাঁকুড়া: চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা ও জমি আত্মসাৎ, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বানানোর অভিযোগে এবার রণক্ষেত্রের রূপ নিল বাঁকুড়ার পাত্রসায়র। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের জেরে বৃহস্পতিবার পাত্রসায়রের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ নবকুমার পালের বাড়ির সামনে কার্যত ‘জনতার আদালত’ বসালেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। বেগতিক বুঝে নিজের বিলাসবহুল বাড়ির ভেতরেই নিজেকে ‘বন্দি’ করে ফেলেন ওই নেতা।
এদিন সকাল থেকেই পাত্রসায়রের বামিরা গ্রামে শতাধিক মানুষ লাঠি-সোঁটা নিয়ে নবকুমার পালের রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ির সামনে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্রই ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন ওই তৃণমূল নেতা। এরপরই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। উত্তেজিত জনতা বাড়ির আসবাবপত্র এবং দরজা-জানলা ভাঙচুর করতে শুরু করে।
১৫ বছরে অস্বাভাবিক সম্পত্তি, রাজপ্রাসাদের উৎস কী?
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একসময় সাধারণ জীবনযাপন করা নবকুমার পালের সম্পত্তি গত ১৫ বছরে রকেট গতিতে বেড়েছে। তৃণমূলের শাসনকালে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি অসহায় মানুষকে চাকরির টোপ দিতেন। টাকা দিতে না পারলে জমি বন্ধক রাখতে বা নিজের নামে লিখিয়ে নিতে বাধ্য করতেন। তৈরি করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি, বিপুল জমিজমা ও বাগানবাড়ি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতেই এতদিন ভয়ে মুখ না খোলা সাধারণ মানুষ একজোট হয়ে রাস্তায় নেমেছেন।
‘টাকা দিতে পারিনি, জমি লিখে দিতে হয়েছিল’
আক্রান্ত রাজকুমার কর্মকার নামে এক গ্রামবাসী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “পাঁচ বছর আগে আমার দাদা ও বৌদিকে চাকরি দেওয়ার নাম করে আট লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল। আমরা টাকা দিতে না পারায় আমাদের জমি লিখে দিতে বাধ্য করেন নবকুমার। আজ চাকরিও পাইনি, জমিও হারিয়েছি। আমরা আমাদের জমি ফেরত চাই।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাত্রসায়র থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নবকুমার পালের দাবি, “আমি কারও থেকে টাকা বা জমি নিইনি, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চক্রান্ত করা হচ্ছে।” তবে পনেরো বছরে গড়ে ওঠা এই ‘সম্পত্তির পাহাড়’ নিয়ে এখন পাত্রসায়রের অলিতে-গলিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
