এবার মাদ্রাসা স্তরেও জরায়ুমুখ ক্যানসারের বিনামূল্যে টিকা, বড় পদক্ষেপ রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ক্যানসার প্রতিরোধে এবার আরও একধাপ এগুলো রাজ্য সরকার। স্কুল-হাসপাতালের পাশাপাশি এবার রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতেও শুরু হতে চলেছে জরায়ুমুখ ক্যানসার বা সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধী এইচপিভি (HPV) টিকাকরণ অভিযান। সম্প্রতি রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্দেশিকা ও এসওপি (SOP) জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে এই কর্মসূচি সফল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরপরই গত ৩০ মে থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণামতো এই দূরারোগ্য ব্যাধি মোকাবিলায় বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়। কেন্দ্রের পাঠানো প্রায় ৭ লক্ষ ডোজ টিকা দিয়ে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এই অভিযানের সূচনা হয়েছিল। এবার সেই সুরক্ষাকবচ মাদ্রাসা পড়ুয়া কিশোরীদের মধ্যেও পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন।
মাদ্রাসায় টিকাকরণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা
স্বাস্থ্যদপ্তরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৪ থেকে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে সমস্ত মাদ্রাসা পড়ুয়া কিশোরী ছাত্রীরা এই বিনামূল্যে টিকা পাওয়ার যোগ্য। মূলত মাদ্রাসা স্তরের ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে এই প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে এই টিকাকরণ চালু হওয়ায় সমাজের সর্বস্তরের কিশোরীদের কাছে এই সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া যাবে বলে আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আক্রান্তের গ্রাফ ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ মানুষ নতুন করে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং মৃত্যু হয় প্রায় ৩.৪ লাখ রোগীর। ভারতের প্রেক্ষাপটে নারীদের কর্কটরোগের তালিকায় এটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দেশে প্রতি বছর প্রতি এক লাখে ১৪ জন এই রোগে আক্রান্ত হন এবং মৃত্যু হার লাখে ৯ জন। দেশের বিশাল জনসংখ্যার নিরিখে এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উদ্যোগে মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার ফলে টিকাকরণের পরিধি অনেকটাই বাড়বে। এটি একদিকে যেমন ক্যানসারের মতো মারণ ব্যাধির গ্রাফ নামিয়ে আনতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে তেমনই প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু শ্রেণির কিশোরীদের মধ্যে সামগ্রিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও রোগ প্রতিরোধের হার এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেবে।
