৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ওয়াশিংটনের মুখোমুখি দিল্লি, আমেরিকার হামলায় ক্ষুব্ধ জয়শংকর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ওমান উপসাগরে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি জলবীর’-এ মার্কিন হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই ধরনের প্রাণঘাতী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গত বুধবার ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। জাহাজটিতে মোট ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন, যাদের মধ্যে ১৭ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনজনের প্রাণহানি ঘটে।
হামলার কারণ ও মার্কিন যুক্তি
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্ট কম)। তাদের দাবি, ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে জলপথে যে আন্তর্জাতিক অবরোধ জারি রয়েছে, তা লঙ্ঘন করার কারণেই ‘এমটি জলবীর’ নামের এই তেলের ট্যাঙ্কারটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে অবরোধ লঙ্ঘনের ‘শাস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানই উলটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া ভারতীয় জাহাজে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছিল এবং মার্কিন বাহিনী তা প্রতিহত করেছে। যদিও ট্রাম্পের এই বিবৃতির সাথে সেন্ট কম-এর দায় স্বীকারের বার্তার অমিল রয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার ফলে ভারত ও আমেরিকার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক এবং কৌশলগত সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমেরিকার এই আগ্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে যেভাবে সরব হয়েছেন, তা দিল্লির কড়া অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কোণঠাসা করার জন্য আমেরিকার এই মরিয়া চেষ্টা এবার ভারতের মতো বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনের সুরক্ষাকে ঝুঁকিতে ফেলে দিল। ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথগুলোতে ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন দিল্লির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
